বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে কক্সবাজারে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি দ্বীপের কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন ধরেছে।
আজ (২৭ মে) সোমবার সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে জেলার উপকুল ও নিম্নাঞ্চলের অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত রাত থেকে কক্সবাজারে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। এসময় ঝড়ো হাওয়া ও বাতাসের তীব্রতায় জেলার কিছু কিছু এলাকায় গাছপালা ও কাঁচা ঘর বাড়ি ভেংগে পড়েছে। সৈকতের শতাধিক দোকান ভেঙ্গে গেছে।
সোমবার বিকাল তিনটা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বিমান উঠানামা স্বাভাবিক হয়েছে বলে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন। সাগর এখনো উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলার সমুহকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহা বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
মহেশখালী পৌরসভার সিকদার পাড়া এলাকায় জোয়ারের তোড়ে ১টি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। কক্সবাজারের মহেশখালী কুতুবদিয়া সদর উপজেলার সমিতি পাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ জেলার উপকূল ও নিম্নাঞ্চলের অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সালাউদ্দিন সেতু জানিয়েছেন, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, মোস্তাকপাড়া, ফদনার ডেইল, নুনিয়ারছড়া এলাকায় বেশ কিছু কাঁচা ঘর বাড়ি ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার উজান্টিয়া ও রাজাখালী এলাকা কুতুবদিয়া দ্বীপ এবং মহেশখালী উপজেলার সিকদার পাড়া ধলাঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের কিছু এলাকায় পুরনো বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দার জানিয়েছেন, মাতার বাড়ির পশ্চিমে বেড়িবাঁধ টপকিয়ে লোকালয়ে লবন পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় নিতে প্রচার চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ আশ্রয় নিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন। সহজে নিরাপদ আশ্রয় না নিলে জোরপূর্বক সরানো হবে। ইতিমধ্যে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক বিভীষণ কান্তি দাস জানিয়েছেন, ঘুর্ণিঝড় রেমালে মহেশখালীতে গাছ চাপা পড়ে আবুল কালাম নামে একজন আহত হয়েছেন। এসময় জেলার উপকূল ও নিম্নাঞ্চলে ১৫৩টি কাঁচা ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৩ মিলিমিটার। আরও দু-তিন দিন একই ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে এখনও ২ ফুট উচ্চতায় বেড়ে রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে।







