তেল ও গ্যাসের উৎপাদন কমানো হবে খুবই ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে জানিয়েছেন জ্বালানি জায়ান্ট শেল কোম্পানির প্রধান ওয়ায়েল সাওয়ান।
ওয়ায়েল সাওয়ান বিবিসি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিশ্বে এখনও তেল ও গ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে কারণ নবায়নযোগ্য শক্তি খুব শীঘ্রই এদেরকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। চীনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ইউরোপে আসন্ন শীত জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী প্রফেসর এমিলি শাকবার্গ বলেছেন, শেল এর মতো সংস্থাগুলোকে তেলের উৎপাদন কমিয়ে পরিবেশের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।
এই বিষয়ে সাওয়ান বিবিসিকে বলেছেন, আমি এর সাথে সম্পুর্ণ একমত নই। যা বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে তা হলো তেল এবং গ্যাসের উৎপাদন কমানো। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় আবার বাড়তে শুরু করবে। সবাই জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগ করার প্রতিযোগিতায় রয়েছে কারণ বিশ্বব্যাপী নেতারা এই শতাব্দীতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গত বছর ইউরোপীয় কমিশন রূপরেখা দিয়েছিল যে, কীভাবে ইইউ রাশিয়ার তেল এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং তারা নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর হবে। কিন্তু অনেক দেশেই টেকসই এই শক্তিতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
সাওয়ান বলেন, গত বছর গ্যাসের জন্য একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ দেখা গিয়েছিল যেখানে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) খরচ বহন করতে পারেনি। ফলে সেখানকার বাচ্চাদের মোমবাতির আলোতে কাজ করতে এবং পড়াশোনা করতে হয়েছিল। যদি আমরা এখনই জ্বালানি উৎপাদনে ভিন্ন কিছু ভাবি তাহলে তা বিশ্বের একটি অংশের জন্য কাজ করবে না।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রধান ফাতিহ বিরল তেল ও গ্যাসের ওপর নতুন করে বিনিয়োগ করা সম্পর্কে বলেছেন, সরকাররা যদি জলবায়ু সংকটের বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে এখন থেকে তেল, গ্যাস এবং কয়লায় নতুন কোনো বিনিয়োগ করা যাবে না। জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসও তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বিনিয়োগকে ‘অর্থনৈতিক ও নৈতিক পাগলামি’ বলেছেন।







