গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক আজাহার আলী সরকার মারা গেছেন

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আজাহার আলী সরকার মারা গেছেন (ইন্না ইলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। আজাহার আলী সরকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন। গত ২৯ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করা হয়।
সাংবাদিক আজাহার আলী সরকারের মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজী।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত দুটি মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় করছিলেন। লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত এই সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার চিকিৎসায় অন্তত দুটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও শারীরিকভাবে অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত না হওয়ায় নির্ধারিত তিনটি তারিখে তা করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল বনশ্রীর বাসভবন থেকে আজহার আলীকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। পরদিন রমনা থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় চলতি বছর উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। এরপরই গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ।
গ্রেপ্তার দেখানো মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘‘মঞ্চ ৭১’’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম।







