তিন দিনের টানা সরকারি ছুটিতে পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। বাড়তি আনন্দ হিসেবে সপ্তাহব্যাপী বীচ কার্নিভালের নানা আয়োজন দারুন উপভোগ করছেন পর্যটকরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঈদে মিলাদুন্নবীর সাথে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিন দিনের টানা ছুটিতে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সপ্তাহব্যাপী বিচ কার্নিভালের আয়োজন করে। কার্নিভালে শুক্রবার ছিল ঘড়ি উৎসব, নৌ রেলি ও সার্কাস, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সৈকতের লাবনী পয়েন্টে ঢাকা থেকে আসার পর্যটক শ্যামল ভৌমিক জানান, যে হোটেলে আগে ২ হাজার টাকা দিয়ে রাত্রি যাপন করেছিলেন সে রুম এবার ৫ হাজার টাকা ভাড়া নিয়েছে।
খুলনা থেকে আসার পর্যটক সাদিয়া, বুবলি ও শাহীন জানান, থানা ছুটি উপভোগ করতে তারা এখানে ছুটে এসেছে। খাবার-দাবার সব কিছু দাম বৃদ্ধি হলেও পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের বীচ কার্নিভাল তারা ভালই উপভোগ করেছেন বলে জানান।
কার্নিভাল উপলক্ষে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকেলে হোটেল-মোটেল জোনে অভিযান চালানো হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভেষণ কান্তি দাশ জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইনি একটি হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পর্যটন মেলার আহ্বায়ক ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইয়ামিন হোসেন বলেন, মেলায় নানা প্রকার স্টল রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে বিউটি সার্কাস। এছাড়া মহেশখালী কক্সবাজার নৌ রুটে নৌ র্যালী করা হয়।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, আগে তো পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান বলেন, অনেকগুলো হোটেল অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। পর্যটনকে প্রমোট করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সপ্তাহব্যাপী বীচ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। এগুলো সব তাদের জন্য করা হচ্ছে। অথচ তারা বিষয়টি বুঝতে পারছে না।
কক্সবাজারের পর্যটনের ব্যাপারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মূলত আমাদের এই আয়োজন।










