হাসান হাফিজ ও আইয়ুব ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের পদসহ সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও চর দখলের মতো ক্ষমতা দখলের অপতৎপরতা উল্লেখ করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন ও শ্যামল দত্ত।
রোববার ১১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গঠনতন্ত্রের ১৩(ক) ও ৩৪ মোতাবেক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও একজন নির্বাহী সদস্যকে তাদের পদসহ সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি ব্যবস্থাপনা কমিটি বরাবরে পেশ করেন। তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে জাতীয় প্রেসক্লাব ও সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে ফরিদা ইয়াসমিন, শ্যামল দত্ত এবং শাহনাজ সিদ্দীকি সোমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্লাব গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৪-এর খ(১) (৩) ও (৪) অনুযায়ী সিনিয়র সভাপতি হাসান হাফিজকে সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর পরপরই অন্য এক বিবৃতিতে ফরিদা ইয়াসমিন ও শ্যামল দত্ত জানান, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ক্ষমতার পালাবদলের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন সদস্য চর দখলের মতো ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছেন এবং জিনিসপত্র লুটপাট করেছেন।
‘‘সহ-সভাপতি হাসান হাফিজ ও যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অগঠনতান্ত্রিকভাবে নিজেদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, তারা অগঠনতান্ত্রিকভাবে সভা আহ্বান করে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি এবং একজন সদস্যসহ তাদের তিনজনের সদস্যপদ বাতিল করেছেন। এছাড়া ৫০ জনের বেশি সিনিয়র সাংবাদিকের সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই। সেইসঙ্গে তাদেরকে এই ধরনের অগঠনতান্ত্রিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’’
তারা আরও বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব একটি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসের পেশাদার সাংবাদিকরা এর সদস্য। তারা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ক্লাবের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড গঠনতন্ত্রবিরোধী ও অবৈধ বলে গন্য হবে। এ ব্যাপারে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে পরিচালিত হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব। একটি নিরপেক্ষ, নিয়মতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এর ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচিত হয়। আমাদের বিশ্বাস, গণতন্ত্রমনা সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ জাতীয় প্রেসক্লাব জবরদখলের এই গর্হিত কর্মকাণ্ডকে কোনভাবেই সমর্থন করবেন না।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।







