কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রামন জেসুরুন এবং তার ছেলে রামন জামিল জেসুরুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হার্ড রক স্টেডিয়াম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে মিয়ামি পুলিশ। বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে তিনটি অপরাধমূলক কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গণমাধ্যমের জন্য ব্যবহৃত স্টেডিয়ামের সুড়ঙ্গগুলোর একটিতে একাধিক নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তারা মারামারির ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন। এ সময় কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও তার ছেলে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় কারাগার সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়, নিরাপত্তারক্ষী রামন জেসুরুনকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হাতের তালু দিয়ে ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরতে বলেন। এ সময় বাবা ও ছেলে নিরাপত্তারক্ষীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার করতে শুরু করে। পর ঝগড়ার এক পর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে রামন জেসুরুন এবং তার ছেলে রামন জামিল জেসুরুনকে মিয়ামির একটি আদালতে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জামিনের জন্য দুই হাজার ও তার ছেলের জন্য এক হাজার ডলার ধার্য করেন বিচারক।
কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর ৭১ বর্ষী জেসুরুন ফিফা কাউন্সিলের কৌশলগত ও তত্ত্বাবধান বডিতে কাজ করেন।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৬টায় আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার মধ্যকার কোপা আমেরিকার ফাইনাল মাঠে গড়ানোর ছিল। কলম্বিয়া সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে দেরি হয়। প্রথমে ৩০ মিনিট পর শুরুর কথা থাকলেও পরে তিন দফায় আরও ৫০ মিনিট বাড়ানো হয়। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে শুরু হয় শিরোপা মহারণ।
স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের প্রবেশের সময় উচ্ছৃঙ্খল কলম্বিয়ান ভক্তদের তোপের মুখে পড়েন মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মী দল। কলম্বিয়ান অধ্যুষিত সেই অঞ্চলের অনেকেই ফাইনালের ভেন্যুতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ফলে স্টেডিয়াম গেটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীরা টিকিটবিহীন কলম্বিয়ান সমর্থকদের উপর চড়াও হন। তবুও অনেকেই ঢুকে পড়েন বিনা টিকিটে। আয়োজকরা তাৎক্ষণিকভাবে স্টেডিয়ামের গেট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফাইনাল গড়ানোর সময় পিছিয়ে দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ভিডিও এবং ছবিগুলোতে স্টেডিয়ামের ভেতরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। এসভ ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, একটি এসকেলেটরের রেলিংয়ের পাশে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় জুতা, সোডার ক্যান, চশমা এবং পোশাক পড়ে রয়েছে। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবেশপথে একটি চেক পয়েন্টের নিরাপত্তা রেলিংগুলোর কাছে শিশুরা কাঁদছিল। হাজার হাজার মানুষ ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েছিল।








