মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন অভিবাসী মেধাবী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত এইচ-১বি ভিসা নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে।
এটি একটি বিশেষ ভিসা প্রোগ্রাম যা বিশেষায়িত পেশায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য তৈরি। তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে অনেকেই অভিবাসনের বিরোধিতা করছেন, এমনকি তা মেধাবী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যমতে, এইচ-১বি ভিসা এমন কর্মীদের জন্য যাদের “বিশেষ দক্ষতা” রয়েছে এবং অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই প্রোগ্রামটি এমন নিয়োগদাতাদের সাহায্য করার জন্য তৈরি যারা মার্কিন কর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা খুঁজে পান না।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি (ডিওজিই)-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন টেসলার সিইও ইলন মাস্ক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেতা বিবেক রামাস্বামী। তারা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি মেধাবী কর্মীদের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
ইলন মাস্ক তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিভাবান এবং প্রেরণাদায়ক প্রকৌশলীর সংখ্যা খুবই কম। তাই বিশ্বব্যাপী সেরা প্রতিভা খুঁজে আনাই দলকে চ্যাম্পিয়ন করার একমাত্র উপায়।”
রামাস্বামী আরও জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যম মানের প্রশংসা করছে, যা আমাদের মেধাবীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই মনোভাব বদলাতে না পারলে আমরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ব।”
এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম সমর্থন করার কারণে রামাস্বামী এবং ইন্ডিয়ান-আমেরিকান সৃীরাম কৃষ্ণানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প সমর্থকদের একটি অংশ বর্ণবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। কৃষ্ণান সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের পলিসি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
ডানপন্থী রাজনীতিবিদ লরা লুমার এ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি ভারতীয়দের “তৃতীয় বিশ্বের আক্রমণকারী” বলে উল্লেখ করেন।
রামাস্বামী যুক্তি দেন, “যে সমাজ মধ্যম মানকে উদযাপন করে, সেখানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সেরা মেধা তৈরি হবে না।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের যদি বিশ্বের সেরা প্রকৌশলীরা না থাকে, তবে চীন আমাদের পিছনে ফেলে দেবে।”
বর্তমানে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে প্রতি বছর ৬৫ হাজার কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি পান, যার অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারীদের জন্য বরাদ্দ।
সর্বাধিক ভিসাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ভারতীয় এবং ১২ শতাংশ চীনা নাগরিক। এই ভিসা প্রোগ্রাম মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত পেশার জন্য তৈরি।
কিছু ট্রাম্প সমর্থক দাবি করেছেন, এই নীতি মার্কিন কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম কর্মসংস্থানের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মন্তব্য করেন, “বিদেশি মেধাকে আকৃষ্ট করতে হলে প্রথমে মার্কিন জনগণের প্রতি তাদের নেতাদের বিনিয়োগ করতে হবে।”
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ক শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে নয়, মার্কিন সমাজেও একটি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। বিদেশি মেধার গুরুত্ব এবং দেশীয় কর্মীদের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।








