বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি সহায়তা বিষয়ক পরামর্শ সভা। বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)।
উল্লেখ্য, পরামর্শ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনএনআরসি’র ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায়।
প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ। এটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করেছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি)। আইনি বিষয় নিয়ে এই পরামর্শ সভায় বিভিন্ন সেক্টর থেকে ৪১জন অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-সার্বিক, উপ-পরিচালক ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবীবৃন্দ, পাবলিক প্রসিকিউটর, প্যানেল আইনজীবী, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ জেলা কমিটির সদস্য, ব্লাস্ট আইনজীবী, আইন সালিশ কেন্দ্র প্রতিনিধি, মানবাধিকার জোটের সদস্য, কেবল অপারেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ওয়েব ফাউন্ডেশন এবং অপরাজেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি, কলেজ শিক্ষক সমিতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সমিতির সদস্য, স্থানীয় সংবাদপত্র সম্পাদক এবং মিডিয়া প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী এবং নারী-নেতৃত্বাধীন এনজিও প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্থানীয় শিক্ষাবিদ, যুব প্রতিনিধি (মহিলা ও পুরুষ)।
পরামর্শ সভার উদ্দেশ্য ছিলো জেলা পর্যায়ের আইনি সহায়তা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি আইনি সহায়তা সংস্থাগুলির কার্যক্রমে টিএফজিবিভি বিষয়গুলোকে একীভূত করা। টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণে আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ জেলা কমিটির সদস্যদের কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। নাগরিক সমাজ সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। রেফারেল সিস্টেম প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা পরিষেবা নেয়ার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের আইনি সহায়তা কর্মকর্তা এবং সংস্থাগুলির ভূমিকাকে উৎসাহিত এবং শক্তিশালী করা।
স্পিড ট্রাস্টের মিশন প্রধান এএইচএম শামসুল ইসলাম, অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশিত ফলাফলের রূপরেখা তুলে ধরেন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
বিএনএনআরসি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান “টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এর ওপর বিষয়-ভিত্তিক আলোচনা” করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করেন।
এই উপস্থাপনায় টিএফজিবিভি মোকাবেলার জন্য সংজ্ঞা, রূপ, প্রভাব এবং বিদ্যমান আইনি ও নীতি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই উপস্থাপনার পর, “টিএফজিবিভি প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তা প্রদান ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় টিএফজিবিভি-এর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, সকলের নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে কাজ করা, দায়িত্ব এবং উদ্ভাবনী কৌশলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
মুক্ত আলোচনায় সাইবার আদালতের বিচার প্রক্রিয়া, সাইবার আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, পরিবার ও স্কুল-কলেজ পর্যায় ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাইবার অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া সহজ করা, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, অনলাইন আসক্তি ত্যাগ করা, কাঙ্ক্ষিত সেবার মান উন্নয়ন, সাইবার ক্রাইমের শিকার ব্যক্তিদের দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বরিশাল জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্ত ও উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, জিবিভি এবং টিএফজিবিভি-এর প্রাথমিক শিকার হিসেবে নারী ও মহিলা শিক্ষার্থীরা যে বেশি দুর্ভোগের শিকার তা উল্লেখ করেন।
তিনি স্বীকার করেন যে পুরুষরাও টিএফজিবিভি-এর শিকার হতে পারে, তিনি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং।
তিনি বলেন প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এই সহিংসতার মাত্রা ও নতুন নতুন ফর্মের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ভুক্তভোগীদের আইনি পরামর্শ নিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনাগুলি রিপোর্ট করার আহবান জানান। টিএফজিবিভি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সকলের নিজ নিজ জায়গা থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা পর্যায়ের এই পরামর্শ সভা থেকে সমাজের প্রতিনিধিরা টিএফজিবিভি সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করেছেন, নাগরিক সমাজ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রে এই পরামর্শ সভা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।








