জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাতলা সীমান্তের কিছু অংশে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আবারও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি নিয়ে রোববার ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ২৮০ মেইন পিলারের ১৫ নম্বর সাব পিলারে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বৈঠক করেছেন।
এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ধরঞ্জী ইউনিয়নের উচনা ঘোনাপাড়ায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করলেও বিজিবির বাধার মুখে ফিরে যায়। স্থানীয় সুত্রে খবর পেয়ে রোববার দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তের গয়েশপুর ও বাংলাদেশ সীমান্তের সোনাতলা অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। গত কয়েকদিন ধরে এই অংশের ২৮০ মেইন পিলারের ১২ ও ১৩ নম্বর সাব পিলারের ভারতীয় অভ্যন্তরে ৫ থেকে ১০ গজের ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ সদস্যরা দিনে পরিস্কার করেন আর রাতে ওই অংশে বেড়া দেন। এভাবে দুইটি সাব পিলার অংশে তারা বেড়া দেন। বিষয়টি স্থানীয়রা বিজিবিকে জানালে সেখানে বাধা দেওয়া হয়। এরপর বিএসএফ কাজ বন্ধ রাখেন। এ নিয়ে রোববার দুপুরেও বৈঠক করেছেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সীমান্তের জমির আইলে ও পুকুর পাড়ে বসে আছেন। আর বিজিবি সদস্যরা ধান খেতের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। হাটখোলা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবির কয়েকজন সদস্য বৈঠকের জন্য সাব পিলার ১৫ নম্বরে গিয়েছেন। সেখানে ভারতের গয়েশপুর ক্যাম্পের বিএসএফ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে বৈঠক হয়। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকটি চলে ১টা পর্যন্ত। তবে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কি কথা হয়েছে তা বলতে রাজি হননি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন ২০ বিজিবি হাটখোলা বিওপি কমান্ডার সাইদুল বারী।
সোনাতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে বিএসএফ বেঁড়া দিচ্ছে। তারা দিনের বেলায় জঙ্গল কাটে আর রাতের বেলায় ওই জায়গা ঘিরে বেড়া দেয়। এ বিষয়ে বিজিবি নিষেধ করার পরে রোববার বৈঠকে বসেছিল। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি আমি জানি না।
আরেক বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, বিএসএফ কী আন্তার্জাতিক সীমানা মানবে না? তারা জোড় করে এসব করছে। আমরা এই বিষয়টি দেখার জন্য বিজিবির মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই এলাকার আরিফুল ইসলাম বলেন, বিজিবি গতকাল বাধা দিয়েছিল। রাতে কাজ বন্ধ থাকার পর সকালে আবার কাজ শুরু করে। পরে বিজিবি এসে বাধা দেয় এবং তাদের সাথে বৈঠক করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লাইজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর বিজিবিকে জানানো হলে শনিবার তারা বেড়া নির্মাণে বাধা দেন। তারপরেও রোববার সকালে আবার কাজ করে বিএসএফ। পরে বিজিবি এসে আবারও বাধা দিয়ে তাদের সাথে বৈঠক করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমানার ১৫০ গজের মধ্যে ঘেরা যাবে না। কিন্তু তারা সেটি মানছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ নেওয়াজ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা বাধা দিয়েছি। তারা কাজ স্থগিত রেখেছেন। তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে, আর কাজ করবে না। আর যে অংশে কাজ করেছে সেটি তুলে নিয়ে যাবেন।







