মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি স্বদেশ রক্ষায় আবার অস্ত্র তুলে নিতেও প্রস্তুত।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক বামপন্থী গেরিলা নেতা পেট্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সহিংস হস্তক্ষেপ চালায়, যেমনটি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় করা হয়েছে তাহলে তার জবাব দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
পেট্রো লিখেন, আমি আর কখনও অস্ত্র না ধরার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু স্বদেশের জন্য হলে আবার অস্ত্র তুলে নেব।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অজুহাতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বামপন্থী নেতা পেট্রো শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
দুই দেশের নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বাক্যযুদ্ধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও শত্রুতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সপ্তাহান্তে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, পেট্রোর নিজের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা উচিত। আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা ভেনেজুয়েলার ওই অভিযানকে ব্যাপকভাবে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, কলম্বিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা ভালো ধারণা বলে মনে হয়।
ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া খুবই অসুস্থ একটি দেশ, একজন অসুস্থ ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত। যে কোকেন উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে। সে খুব বেশি দিন এটা করতে পারবে না।
এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের মন্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
ট্রাম্প পেট্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন পেট্রো। তিনি বলেন, তার সরকার মাদকের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘যুদ্ধের’ সামরিকীকরণ নীতি থেকে সরে এসে মাদক উৎপাদনের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে।
পেট্রো আরও বলেন, আমার জনগণের ওপর আমার অগাধ আস্থা আছে। সে কারণেই আমি জনগণকে আহ্বান জানিয়েছি, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেকোনো অবৈধ ও সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে আমাকে রক্ষা করার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার এই প্রকাশ্য উত্তেজনা লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।







