সীমান্তের ওপারে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মিয়ানমারে পাচারের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী ও জ্বালানি তেলসহ ছয় পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
শনিবার মধ্যরাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এবং রোববার ৩ মার্চ ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড়ইতলী সংলগ্ন নাফ নদীতে পৃথক এ অভিযান চালানো হয়।
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম তাহসিন রহমান জানান, শনিবার মধ্যরাতে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সৈকতের ঝাউবন এলাকায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী ও জ্বালানি তেল মিয়ানমারে পাচারের জন্য মজুদ করার খবরে কোস্টগার্ডের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। সেসময় নাফ নদীতে অবস্থানকারী সন্দেহজনক একটি মাছ ধরার ট্রলার দেখতে পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা থামার নির্দেশ দেন। কোস্টগার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ট্রলারটি দ্রুত চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ট্রলারটিকে ধাওয়া দিয়ে নাফ নদীর মোহনায় সেটি জব্দ করতে সক্ষম হন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
সেসময় ট্রলারে থাকা ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২১ বস্তা রসুন, ১৭ বস্তা চিনি, ৩ বস্তা বিস্কুট ও ৩৭ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানিরছড়া এলাকার বাসিন্দা মো. তৈয়ব (৪৩), মো. সলিম (২৬), মো. জসিম উদ্দিন (১৮), মো. মজিবুল্লাহ (১৮) ও মো. রিদওয়ান (২২)।
রোববার ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকা সংলগ্ন নাফ নদীতে পৃথক অভিযানে খাদ্য সামগ্রী ও জ্বালানি তেলসহ মো. শফিউল্লাহ (৪৮) নামের এক পাচারকারীকে আটক করা হয় বলে জানান এস এম তাহসিন রহমান।শফিউল্লাহ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার বাসিন্দা। পরে তার হেফাজতে থাকা ৪ বস্তা চিনি, ৭ বস্তা ময়দা, ১২০ লিটার অকটেন, ৩৫ প্যাকেট বিস্কুট, ১০ প্যাকেট চকলেট, ৪ প্যাকেট চানাচুর, ৩ প্যাকেট সুজি, ১০ প্যাকেট হুইল সাবান, ১ প্যাকেট নুডুলস, ২ প্যাকেট আটা, ১ কেজি মরিচের গুঁড়া, ৪ কেজি ডাল, ৫ লিটার পামঅয়েলসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
তাহসিন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে।








