পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পর্দা নামলো দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র আয়োজন—২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। নয় দিনের এই উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশের মোট ২৪৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা, রেট্রোস্পেকটিভ, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্মমেকার বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

যাঁরা জিতলেন পুরস্কার
চিলড্রেন ফিল্ম সেকশনে বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে চেন কুংহু পরিচালিত চীনের সিনেমা ‘কুইংটন এন্ড কুইহুয়া’। অডিয়্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ড্রেইনড বাই ড্রিমস’। আর বেস্ট অডিয়্যান্স অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় জিন হু পরিচালিত চীনের সিনেমা ‘অল কোয়াইট অ্যাট সানরাইজ’।
উইমেন্স ফিল্মমেকার সেকশনে স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পায় ফিলিপাইনের সিনেমা ‘বেনেথ দ্য বেজ’। একই বিভাগে বেস্ট ডকুমেন্টারি ফিল্ম নির্বাচিত হয় জার্মানি, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘লিটল সিরিয়া’। বেস্ট ফিকশন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে পলিনা কোন্ড্রাতেবা নির্মিত রাশিয়ার সিনেমা ‘ফ্রম স্ক্রেচ’। বেস্ট ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পান কিরগিজস্তানের নির্মাতা এইজদা আমাঙ্গেলডে—তার সিনেমা ‘দ্য সেভেন্থ মান্থ’।
স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশনে স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পায় আলি আল হাজরি পরিচালিত কাতারের সিনেমা ‘আই লে ফর ইউ টু স্লিপ’। বেস্ট ডকুমেন্টারি ফিল্ম হয় ক্লাউডিয়া বেলাসি ও মারকুস স্টেইনার এন্ডারের নির্মিত ‘দ্য গার্ডিয়ান অব স্টোরিস’। বেস্ট ফিকশন ফিল্মের পুরস্কার জিতে নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ‘আ ভাস্ট অ্যালগরিদম অব হিউমিনিটি: দ্য মুভি’।
বাংলাদেশ প্যানোরামার ট্যালেন্ট সেকশনে সেকেন্ড রানারআপ হয় আবির ফেরদৌস মুখর নির্মিত ‘ইশপাইট’। ফার্স্ট রানারআপ নির্বাচিত হয় উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ‘ধ্যাৎ!’। ফিপ্রেস্কি জুরি কর্তৃক প্রদত্ত বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পায় তানহা তাবাসসুম নির্মিত ‘হোয়াট ইফ’।
বাংলাদেশ প্যানোরামা সেকশনের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ফিপ্রেস্কি জুরির বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে আকাশ হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।
এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশনে ইরান-তাজিকিস্তানের যৌথ প্রযোজনার ‘ফিশ অন দ্য হুক’ ছবির জন্য স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পান অভিনেতা ইসফান্দিওর গুলমভ। একই বিভাগে ‘বার্নিং’ ছবির জন্য যৌথভাবে বেস্ট স্ক্রিপ্টরাইটার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন দাস্তান মাদালেভ ও এইজদা আমাঙ্গেলডে।
কাজাখস্তানের সিনেমা ‘আবেল’-এর জন্য সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার পান জোলানতা দেলুস্কা। একই ছবির জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন ইয়ারলান। ইরানি সিনেমা ‘দ্য হাসব্যান্ড’-এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন ফারিবা নাদেরি।
উৎসবে সেরা নির্মাতার পুরস্কার অর্জন করেন আজারবাইজানের পরিচালক এমিন আফান্দিয়েভ—তার সিনেমা ‘আ লোনলি পারসন মনোলোগ’ এর জন্য। আর উৎসবের সেরা ছবি নির্বাচিত হয় কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’, যা যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন এরকা জুমাকমেটোভার ও মিল আটাগেলডিভ।
প্রসঙ্গত, ‘কুরাক’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করেছে। সিনেমাটি ৩০তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বাংলাদেশ জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ জিতে নেয়। বুসানের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালক এরকা জুমাকমেটোভার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
কিরগিজ ভাষার সিনেমা ‘কুরাক’ পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর ক্ষমতাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত।








