ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ঘরচাপা পড়ে লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জের চন্ডিপাড়া গ্রামে পুষ্প (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে নিহতের নানী হোসনেয়ারা বেগম। এ ছাড়া প্রায় ৭শ’ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
জানা যায়, জেলার কমলনগর, রামগতি ও সদরসহ তিন উপজেলায় প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, রোপা আউশ এবং আউশের বীজতলা, পানের বরজ, ডালসহ অন্যান্য ফসল। ভেসে গেছে হাজারো পুকুর ও খামারের মাছ। উপড়ে গেছে বহু গাছপালা। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের বহু খুটি ও তার।
জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন অফিস জানিয়েছে, রামগঞ্জে রেমালের প্রভাবে ঘরচাপা পড়ে একজন শিশু মারা গেছে ও একজন বৃদ্ধা আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬৮৫টি। বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ৪২ টি পুল ভেঙ্গেছে, ছয়টি বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়েছে, ৫০টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আড়াই হাজার থেকে তিনহাজার বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক মো. সামছুদ্দিন ফিরোজ জানান, রিমেলের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে দুই হাজার ২৬০ একর ফসলি জমি সম্পূর্ণরুপে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজি এক হাজার হেক্টর, আউশ ৮৫০ হেক্টর, আউশের বীজতলা ৮৬ হেক্টর এবং ডাল জাতীয় ফসল ২৮০ হেক্টর, পানের বরজ ১৬ হেক্টর, হলুদ ১৬ হেক্টর, আদা দুই হেক্টর এবং আখ ১০ হেক্টরসহ অন্যান্য ফসল। ৫১০টি পুকুরের মাছ ৯৩.৬ হেক্টর মাছ ভেসে গেছে। তবে বেসরকারি হিসেব মতে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। প্রচুর কাঁচা ও আধা পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এদিকে, জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ্জ্জুামান জানান, বেড়িবাঁধের প্রায় দুই কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রামগতি আলেকজান্ডারে বেড়িবাঁধের নীচের অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেগুলো দ্রুত মেরামত কাজ চলছে।
জেলা বনবিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন বেড়িবাঁধ ও সড়কের পাশে চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্থ সহস্রাধিক।
বনবিভাগ আরও জানায়, কমলনগরে নতুন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। জেলা শহরের জেলার অধিকাংশ এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সদর পৌরসভাসহ জেলার অন্যান্য পৌরসভাগুলো গত তিনদিন যাবৎ খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরসহ প্রায় ঘোটা জেলা বিদ্যুৎহীন এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
তবে, এদিন লক্ষ্মীপুরে মঙ্গলবারও থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। জেলা শহরসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্ন এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।
এদিকে, সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ও ইন্টারসেবা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। পরে ১২টা থেকে আবার সেবাটি চালু হয়।








