কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দরগাহাটি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, গতকাল বালু উত্তোলন নিয়ে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর বালু ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দায়ী করার অভিযোগ করে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়, যার ফলে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি এবং এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নিকলী সদর ইউনিয়ন ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম সোহেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সদর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের লোকজন ঘোড়াউত্রা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। গতকাল রাতে ইউএনও, এসিল্যান্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আজ বেলা ১১টার দিকে বাজার থেকে রিকশায় করে বাড়ি ফেরার সময় গিয়াস উদ্দিনের লোকজন আমার পথরোধ করে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমার লোকজন বাজারে এলে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আবারও হামলা করে। এতে আমার কয়েকজন লোক আহত হয় এবং দুটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু এবং সদর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।







