তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি)-কে ১০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেবে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংক।
এফএসআইবি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এই সহায়তার জন্য আবেদন করেছে, যেখানে সিটি ব্যাংককে সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা জানিয়েছেন, সিটি ব্যাংক সহায়তা দিতে সম্মত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। আবেদনটি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই গ্যারান্টি প্রদান করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান: সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিলে এফএসআইবি’র অ্যাকাউন্টে সহায়তা পৌঁছে যাবে। সিটি ব্যাংকের পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় তারা এই সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত সপ্তাহে দশটি শক্তিশালী ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সিটি ব্যাংকের এই পদক্ষেপ সেই ধারাবাহিকতায়।
এফএসআইবি’র গ্রাহকরা তারল্য সংকটের কারণে টাকা তুলতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এফএসআইবি’র চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেলে সিটি ব্যাংক থেকে অর্থ পাওয়া যাবে।
নোট ছাপানো ছাড়াই ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর শক্তিশালী ও দুর্বল ব্যাংকগুলোর মধ্যে এই ধরনের সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ এই অগ্রগতির আগেই সংকটে থাকা ৭টি ব্যাংক তারল্য সহায়তা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংককে গ্যারান্টর হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। এই ৭ ব্যাংক মিলে ২৫,০০০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ সহায়তা চেয়েছে।
আবেদন করা ৭ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭,৯০০ কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া, ইসলামী ও ন্যাশনাল ব্যাংক ৫,০০০ কোটি টাকা; এক্সিম ব্যাংক ৪,০০০; গ্লোবাল ইসলামী ৩,৫০০ কোটী টাকা; সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ২,০০০ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ১,৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের জন্য জামিনদার হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সহায়তার পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জামিনের আবেদন জমা দেবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।








