যৌন হেনস্থার অভিযোগে জাতীয় পুরস্কার প্রত্যাহার করা হল ‘স্ত্রী ২’ খ্যাত কোরিওগ্রাফার জানি মাস্টারের। মূলত দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এই বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দক্ষিণী ও বলিউড দুই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই কোরিওগ্রাফার হিসাবে বেশ সুপরিচিত নাম জানি মাস্টার। যার আসল নাম শাইক জানি বাশার।
এই মুহূর্তে ধর্ষণের অভিযোগে জেলবন্দি রয়েছেন কোরিওগ্রাফার জানি মাস্টার। ‘তিরুচিত্রম্বলাম’ ছবির গান ‘মেঘম করুককথা’র জন্য সেরা কোরিওগ্রাফার হিসাবে জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। যদিও এই গানের আরও এক কোরিওগ্রাফার সতীশ কৃষ্ণনের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান জানি মাস্টার। তবে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেল বিবৃতি দিয়ে জানায়, এই জাতীয় পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেলের উপ-পরিচালক ইন্দ্রাণী বোসের স্বাক্ষরিত চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘অভিযোগের গুরুতরতা এবং বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের (তিরুচিত্রম্বলম ছবির জন্য) সেরা কোরিওগ্রাফারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শাইক জানি বাশার থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত।’
শুধু তাই নয়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেল আগামী ৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য জানি মাস্টারকে দেওয়া আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ঘটনাক্রমে জানিকে এই সপ্তাহে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এখন কেন্দ্রের তরফে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ায় তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালতে কী সিদ্ধান্ত হয় সেটাই দেখার বিষয়।
জানি মাস্টারকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ গোয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে হায়দরাবাদে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সেখানকার আদালতে হাজির করা হলে তার ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত হয়।
জানি মাস্টারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন তার সহকারী কোরিওগ্রাফার। অভিযোগকারী পুলিশকে জানান, তিনি জানি মাস্টারের সঙ্গে ২০২০ সালে একটা কাজের জন্য মুম্বাই সফরের সময় তিনি যৌন হেনস্থার শিকার হন। আর এই যৌন হয়রানি অব্যাহত ছিল, এমনকি জানি এই বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন। –হিন্দুস্থান টাইমস








