চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আজকের (রোববার) সব পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
রাতে যা ঘটেছিল
শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। ওই শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তিনি ২ নম্বর গেট সংলগ্ন মাছ বাজার এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন।
জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ঢোকার সময় তার সঙ্গে ভবনের দারোয়ানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। পরে শিক্ষার্থীটি ফোনে তার এক বন্ধুকে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের শরীরে দেশিয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, গতরাতের ঘটনার সময় যারা বিভিন্ন ফ্ল্যাটে আটকে পড়েছিল, তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে জরুরি মিটিং করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও জানানো হয়েছে। সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার পর স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইক থেকেও শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।








