চীনে তিন বছরের কম বয়সী প্রতি শিশুর জন্য বছরে ৩ হাজার ৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার বা ৪৫ হাজার টাকা) আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে সরকার। জন্মহার বাড়াতে এটাই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের এমন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দেশটি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জন্মহার হ্রাসের প্রবণতা ঠেকাতে শিশু পালনে এই আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন সরকার। নতুন ঘোষিত এই ভর্তুকি কর্মসূচির আওতায় প্রতি শিশুর জন্য বছরে ৩ হাজার ৬০০ ইউয়ান এবং সর্বোচ্চ ৩ বছরে মোট ১০ হাজার ৮০০ ইউয়ান (প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার) দেয়া হবে।
সোমবার (২৯ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এই নীতি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হবে, অর্থাৎ আগে জন্ম নেয়া সন্তানদের ক্ষেত্রেও আবেদন করা যাবে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যাদের সন্তান হয়েছে, তারাও এই ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।
চীন কয়েক বছর ধরেই শিশু জন্মে উদ্বেগজনক হারে পতনের মুখে রয়েছে। এক সন্তান নীতি ২০১৬ সালে বাতিল করলেও জন্মহারে প্রত্যাশিত উন্নতি ঘটেনি। বরং দেশটি এখন এক ভয়াবহ জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি।
চীনের বিভিন্ন প্রদেশ ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে জন্মহার বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা দিচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় হোহহট শহর চলতি বছরের মার্চে ঘোষণা দেয়, তিন বা ততোধিক সন্তানের ক্ষেত্রে প্রতি সন্তানের জন্য ১ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। বেইজিংয়ের পূর্ব দিকে অবস্থিত শেনইয়াং শহর প্রতি মাসে ৫০০ ইউয়ান দিচ্ছে তৃতীয় সন্তানের জন্য।
শুধু ভর্তুকিই নয়, সম্প্রতি চীনা সরকার স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে প্রি-স্কুল শিক্ষা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিতে বলেছে।
চীন ভিত্তিক ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তুলনামূলক দিক থেকে শিশু পালনে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ চীন। সেখানে একটি সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে গড়ে ৭৫ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার খরচ হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনে জন্ম নেয় ৯৫ দশমিক ৪ লাখ শিশু। এর আগের বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি হলেও, মোট জনসংখ্যা তৃতীয় বছরের মতো হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ বিলিয়নের ঘরে থাকলেও সেটি দ্রুত ঝরে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে বেইজিং।







