কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ছাত্রশিবির তাকে বহিষ্কার করেছে ‘প্রেমের সম্পর্কে’ জড়ানোর কারণে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
ফেসবুক পোস্টে এস এম ফরহাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী জিসানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
এস এম ফরহাদ দাবি করেন, গতরাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধিদল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখনো তিনি পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন। ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এ কারণে নিখোঁজ কিংবা অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো তথ্যসূত্র এখন পর্যন্ত তাদের কাছে নেই।
এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
পরে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
জিসান উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা হয়েছে।
মামলায় জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, এক নারীকে ধর্ষণ এবং তার সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার অভিযোগে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।







