রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের ‘উচ্চতর কমিটি’ গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) এক সভায় ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি ‘উচ্চতর কমিটি’ গঠন করে হল প্রশাসন। সন্ধ্যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই হলের এক নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে সরাসরি ছাত্রত্ব বাতিল ও গ্রেফতারের সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া হলে বহিরাগত ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আগামী ১৬ মে দুপুরের মধ্যে হল ত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গত শনিবার ও গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের ওই ঘটনার ব্যাপারে আজ দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হল প্রশাসনের সভা হয়। সভায় ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রকৃত ঘটনা কী, কেন ঘটলো, এর উদ্দেশ্য কী এবং এর পিছনে কারা কারা যুক্ত সেটি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, তিন সদস্যের উচ্চতর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. অনুপম হীরা মণ্ডলকে। বাকি দুজন সদস্য হলেন, আবাসিক শিক্ষক ড. মো. ফারুক হোসেন এবং তানজিল ভূঞা।
বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার হলের অতিথি কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে রাত ১১টা থেকে দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় রামদা ও লাঠিসোঁটা হাতে একে অপরকে ধাওয়া দেন। পরদিন সকালে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সোহরাওয়ার্দী হলের নিরাপত্তাপ্রহরী মনিরুল ইসলামকে মারধর করেন সভাপতি-সম্পাদকের অনুসারীরা।
অভিযুক্তরা হলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান ওরফে আতিক, মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী সানি হাজারী, মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আজিজুল হক আকাশ ও কয়েকজন বহিরাগত। দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ানোর পর গতকাল রাতে এক নেতাকে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা রামদা, রড, লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এরপর দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে হল প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে তল্লাশি করেন। অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।








