আজ ২০ এপ্রিল, ‘অশঙ্কিতগতির এক দশক’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১০ম বর্ষে পদার্পণ করল চ্যানেল আই অনলাইন। দ্রুত এবং সঠিক সংবাদের সমন্বয় করে গত নয় বছর পার করেছে চ্যানেল আই অনলাইন।
বিশেষ এই দিনে চ্যানেল আই এবং চ্যানেল আই অনলাইনের দর্শক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঠক-দর্শক-পৃষ্ঠপোষকদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক এবং চ্যানেল আই সংবাদের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন: সত্য উত্তর যুগে মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে নিজের বিশ্বাস ও আকাঙ্খা থেকে সংবাদকে তার বিবেচনায় নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে, তখন সাংবাদিকতা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি কঠিন। ঠিক এরকম সময়েই যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন। দশম বছরে পদার্পণের এ সময়ে আমরা জোর দিয়েই বলতে পারি, সত্য যে কঠিন- কঠিনেরে ভালোবাসিলামের মতো আমরা সত্যকে সঙ্গী করে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছি।

‘বিশেষ করে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জকে ডিজিটাল সম্ভাবনায় পরিণত করে আমরা সাংবাদিকতার সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই চ্যানেল আইকে আগের মতোই বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে পেরেছি’, বলেন জাহিদ নেওয়াজ খান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি চ্যানেল আই পরিবারের সব সদস্যকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে চ্যানেল আই অনলাইনের ডিজিটাল অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এডিটর তৌফিক আহমেদ বলেন: চ্যানেল আই অনলাইন দশ বছরে পদার্পণ করল। আমরা বলছি ‘অশঙ্কিতগতির এক দশক’। ২০১৪ সালে আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের তত্বাবধানে এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের দিকনির্দেশনায় একটি অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম করার পরিকল্পনার শুরু। এরপর জাহিদ নেওয়াজ খান, আমি, সাব্বির হোসেন এবং ফাহমিদা আখতার একত্রিত হয়ে শুরুর কাজটা করি। এরমধ্যে আমাদের সঙ্গে একটা টিম জয়েন করে। আমরা চারজনসহ মোট ১৫ জনের একটি টিম ছিল। ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল সেই দলটি নিয়েই তার যাত্রা শুরু করে। ওই সময়ে চ্যানেল আই অনলাইনের টিমটা ছিল দুর্দান্ত, যারা আজও উজ্জীবিত করে। সেই জায়গা থেকে বিশ্বাস করি অনলাইন এ নিউজ প্ল্যাটফর্মটি অনেকদূর যাবে।

তিনি আরও বলেন: চ্যানেল আই অনলাইনের ধ্রুবতারা জাহিদ নেওয়াজ খান, আমাদের জুয়েল ভাই, আমাদের সম্পাদক। তার নেতৃত্বে-পরামর্শে আমরা এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম যে জায়গায় ছিল, সেই জায়গায় চ্যানেল আই অনলাইন নতুন কী যুক্ত করতে পারে- ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে জুয়েল ভাই সব সময়ই আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করি, আগামীতেও দেবেন।
চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠক ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তৌফিক আহমেদ বলেন: দশ বছর একটা ইতিহাসের প্রথম মাইলস্টোন। বাস্তবতার ভেতর দিয়ে চ্যানেল আই অনলাইন আজকের এ পর্যায়ে এসেছে। আজকের এ দিনে আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাবো পাঠক ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের দর্শকদের। তারা সঙ্গে ছিলেন বলেই আমরা আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চ্যানেল আইয়ের জয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন: চ্যানেল আই অনলাইনের দশ বছরে পদার্পণের এ দিনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সকল পাঠক-দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সময়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পাঠকের সামনে নিয়ে আসে।
‘‘২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল চ্যানেল আই অনলাইনের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। শুরু থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ চ্যানেল আই অনলাইন। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে ধর্ম-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, মানুষের জীবনাচরণ, সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরছে চ্যানেল আই অনলাইন।’’
পাঠক চাহিদার প্রতি সম্মান এবং সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি, জানান তারিকুল ইসলাম মাসুম।

তিনি আরও বলেন: আমি বলবো, পাঠক-দর্শক সঙ্গে ছিলেন বলেই আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এতটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি। বিশেষ করে চ্যানেল আই অনলাইনের ডিজিটাল কনটেন্টগুলো সাধারণ মানুষ যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুব গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব কনটেন্ট সংবাদ নয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি শুধু ভিউ নির্ভর কনটেন্ট নির্মাণ না করে প্রকৃত তথ্য জানিয়ে পাঠক-দর্শকের আপডেট রাখতে।
এসময় দায়িত্বশীল মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম কেমন হবে, সেখানে পাঠক-দর্শকদের জন্য কোন ধরনের কন্টেন্ট দেওয়া হবে সেটা বুঝে কাজ করা একটি চ্যালেঞ্জ বলে জানান তারিকুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন: চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খানের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে চ্যানেল আই অনলাইন সোশ্যাল পরিচালনায় সেই জায়গাটি বুঝেই সংবাদসহ বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি ও পরিবেশন করছে। রিপোর্টার, সারাদেশ ও প্রবাসে থাকা প্রতিনিধিরা এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। আমি আজকের এ দিনে তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আর দীর্ঘ এ যাত্রায় আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য পাঠক ও দর্শকদের শুভেচ্ছা। আপনাদের অনুপ্রেরণাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল চ্যানেল আই কার্যালয়ে চ্যানেল আই অনলাইন-এর উদ্বোধন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস গ্রুপের পরিচালক ফ্র্যান আনস্ওয়ার্থ।







