২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের হাত ধরে আসা ১৯ বছর আগের সেই সাফল্যের পর দীর্ঘ খরা। ক্রিকেটে বড় সাফল্য না এলেও একের পর এক জয় আসায় সেদিকে আটকে ছিল সবার দৃষ্টি। ফুটবলে প্রত্যাশিত অর্জন না আসায় সবাই খেলাটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, এমন আলোচনা বিস্তর।
বাঙালির প্রাণের খেলা ফুটবল যে এখনও সবার হৃদয়ের গহীনে বড় জায়গাই দখল করে আছে, সেটার প্রমাণ সাফে নারী দলের শিরোপা জয়। মানুষের উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভাসার জোয়ার, ছাদখোলা বাসে ফুটবলারদের সংবর্ধনায় উপচে পড়া ঢল, প্রমাণ রেখেছে ফুটবলের প্রতি এখনও অটুট হৃদয়ের বন্ধন।
বিষয়টি নিয়ে খোলামনেই কথা বলেছেন সানজিদা আক্তার। লাল-সবুজদের ২১ বর্ষী রাইট উইং বললেন, ‘আমাদের প্রথমে ধারণা ছিল ফুটবলকে সবাই এতো সমর্থন করে না। ক্রিকেট নিয়েই বেশি হয়তো বা পড়ে থাকে। কিন্তু আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে।’
বুধবার চ্যানেল আইয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সাফজয়ী বীরকন্যারা। দুপুর ১২টার কিছু আগে শিরোপাজয়ী দল জড়ো হয়েছিল চ্যানেল আই ভবনে। ফুলের চাদর পেরিয়ে, সংবর্ধনা, কেক কাটা-সহ হরেক আয়োজন শেষে জমে আড্ডার আসর। সেখানেই মনের দুয়ার খুলে দেন সানজিদা।
‘সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ছাদখোলা বাসে করে দেশের মানুষের কাছে ট্রফি নিয়ে এসেছি। দেশের মানুষের ভালোবাসা ভালো লেগেছে। মিডিয়া ভাইদের এতো বেশি কভার করেছে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আমাদের ব্যাপারে সবকিছু জানতে পেরেছে।’
ফুটবলে শুরুটা যে মোটেও মসৃণ ছিল না, সেটিও অকপটে বললেন সানজিদা- ‘শুরুটা শুধু আমার না, সবারই কঠিন ছিল। আমরা গ্রাম থেকে উঠে এসেছি। গ্রামে যখন আমরা ফুটবল খেলতাম, তখন সবাই বলতো হাফ প্যান্ট পরে মেয়েরা ফুটবল খেলবে কীভাবে। যেহেতু আমরা মুসলিম দেশ।’
‘এটা নিয়ে আমাদের পরিবার, আমরা সবাইকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। মানুষের অনেক কটু কথা উপেক্ষা করে, কানে না নিয়ে আজ আমরা এগিয়ে এসেছি।’
‘বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আমরা অনেক ট্রফি নিয়ে এসেছি। এবার সিনিয়র পর্যায়ে প্রথম ট্রফি নিয়ে আসলাম। আমরা যখন সফল হই, তখন সবার সমর্থন পেয়েছি। এখন যেহেতু আমরা সিনিয়র পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, তাই আরও বেশি সাড়া পাচ্ছি।’







