ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ড্রয়ের পর অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, কোয়ার্টার ফাইনালেই থামবে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যাত্রা। সকলের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে দ্বিতীয় লেগে টাইব্রেকার রোমাঞ্চে স্নায়ুর চাপকে সামলে সেমিফাইনালে উঠেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। পেনাল্টি শ্যুটআউটে চাপের মুখে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার জন্য ফুটবলারদের প্রশংসায় মুখর হন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। তাতেও ফল না আসায় দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ ব্যবধানে সমতা থাকায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। ম্যানচেস্টার সিটিকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে পৌঁছে যায়।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ জায়ান্টদের কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘সবার আমাদের মৃত হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ কখনো মরে না। এমন পরিস্থিতি থেকে জীবিত বেরিয়ে আসার একটাই উপায় ছিল, সেটা হল আমাদের সুযোগ গ্রহণ করা।’
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২ মিনিটেই লিড পায় রিয়াল। ডানপায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিক দর্শকদের চুপসে দেন রদ্রিগো। অতিথি দলের আগে গোল পাওয়া নিয়ে রিয়াল কোচের ভাষ্য, ‘আমরা সুযোগ তাড়াতাড়ি নিতে পেরেছিলাম। তারপর ভালো ডিফেন্স করেছি। সিটির বিপক্ষে এমন খেলা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নদের লড়াকু মানসিকতা কতটা দৃঢ় সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন ইতালীয় এ কোচ। বললেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদকে অনেক কিছু করতে দেখেছি। এটার কারণ বোধ হয় রিয়ালের ব্যাজটা। এটা আপনার ভেতর থেকে এমন কিছু বের করে আনবে, যেটা আপনি নিজেই জানতেন না যে আপনার সেই সামর্থ্য ছিল! শুটআউটে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে সেমিফাইনালে আমরা যেতে পারবো। আন্দ্রে লুনিন দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছে।’
রিয়ালের ফুটবলারদের আত্মনিবেদন নিয়েও প্রশংসায় বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি আনচেলত্তি। দলীয় সংহতি ও শৃঙ্খলাই যে দলটিকে একের পর এক সাফল্য এনে দেয়, সেটি তার সরল বক্তব্যেই স্পষ্ট।
‘এমন একটি দলকে যখন দেখা যায় যারা নিজেরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, আমি এটা দারুণ পছন্দ করি। এভাবেই আপনি জিততে পারবেন বলেই মনে করি।’







