গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে জাতীয় ও আঞ্চলিক সংলাপ করবে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সিজিএস-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ডক্টর আলী রিয়াজ মনে করেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠন ছাড়া গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেন, সিজিএস জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সংলাপের আলোচনা ও নির্দিষ্ট সুপারিশের সারসংক্ষেপ সবার জন্য প্রকাশ করবে। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তা সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবে।
সিজিএস জানায়, গত ৫ আগস্ট দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় রচিত হয়। ছাত্র-জনতার অভাবনীয় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ অভ্যুত্থানে ৭৫০ এরও বেশি প্রাণহানি হয় এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং ৮ আগস্ট নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
তবে নতুন সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সবকিছু সুপরিকল্পিতভাবে রাজনীতিকরণের শিকার হয়েছে। সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।
প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংবিধান, মানবাধিকার ও গুরুতর আইন লঙ্ঘনে ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিতকরণসহ ৮টি ইস্যুতে সংলাপ আয়োজন করবে সিজিএস। এছাড়াও আঞ্চলিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
সংলাপ থেকে উঠে আসা প্রান্তিক মানুষের আশা-প্রত্যাশা রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ আকারে তুলে ধরবে সিজিএস। জানিয়ে দেয়া হবে গণমাধ্যমেও।







