জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। কবিতা-গানসহ সাহিত্যের সব শাখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সাম্য আর মুক্তির বাণী উচ্চারণ করে গেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। সকাল থেকেই কবির সমাধি প্রাঙ্গণে ফুলে দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। এবছর জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘অগ্নিবীণার শতবর্ষ: বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শাণিতরূপ।’
দ্রোহ, প্রেম, সাম্য আর মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাঙালির স্বাধীনতা আর মুক্তির চেতনা শানিত করার ক্ষেত্রে নজরুল সাহিত্যের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। কবিতা-গান-গল্প-প্রবন্ধ-নাটকসহ সাহিত্যের সব শাখায় সমান শক্তি নিয়ে বিচরণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীনতা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকার কারণে বিদ্রোহী কবি নামে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
কবির ১২৪ তম জন্মবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। এদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়াও দোয়া মাহফিল, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। তিনি অবিভক্ত বাংলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মায়ের নাম জাহেদা খাতুন।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কাজী নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখে গেছেন ২২টি কাব্যগ্রন্থ, সাড়ে তিন হাজার মতান্তরে সাত হাজার গান সংবলিত ১৪টি সংগীত গ্রন্থ, তিনটি কাব্যানুবাদ ও তিনটি উপন্যাস গ্রন্থ, তিনটি নাটক, তিনটি গল্পগ্রন্থ, পাঁচটি প্রবন্ধ, দুটি কিশোর নাটিকা, দুটি কিশোর কাব্য, সাতটি চলচ্চিত্র কাহিনিসহ অসংখ্য কালজয়ী রচনা।
জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৪১ সালের শেষ দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসা চলে লুম্বিনী পার্ক ও রাচি মেন্টাল হাসপাতালে। পরে ১৯৫৩ সালে ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে পাঠানো হয় তাকে। এই সময়ে একেবারেই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। ফলে ১৯৫৩ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় নীরবে-নিভৃতেই কাটে তার জীবন।
১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর পর কবির ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন গানের বুলবুল কবি কাজী নজরুল ইসলাম।








