১০০ বছর পার হয়ে গেল শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট পোস্ট অফিসের। ১৯২৩ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জেমস ফিনলে চা কোম্পানির কালীঘাট চা-বাগানে এই পোস্ট অফিসটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার নাম দেওয়া হয় ‘কালীঘাট পোস্ট অফিস।’
শ্রীমঙ্গলের পোস্ট মাস্টার আব্দুল মতিন জানান, ‘কালীঘাট পোস্ট অফিস’ বৃহত্তর সিলেটের চা শিল্পাঞ্চলের প্রথম ও প্রাচীন পোস্ট অফিস। ব্রিটিশ আমলে ব্রিটেন থেকে যেসব টি প্ল্যান্টাররা এ অঞ্চলে এসেছিলেন তাদের পরিবার-পরিজন ও অন্যান্য যোগাযোগের প্রয়োজনে এই পোস্ট অফিসটি প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশরা।’
শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট পোস্ট অফিসে বর্তমানে স্টাফ রয়েছেন ৩ জন। সাব-পোস্ট মাস্টার, পোস্টম্যান এবং একজন রানার। বর্তমানে এই পোস্ট অফিসে চিঠিপত্র কম আসে।
অফিসের সাব-পোস্ট মাস্টার তুষার কান্তি জানান, ‘এক সময়ের কর্মচঞ্চল এই পোস্ট অফিসটিতে এখন দৈনিক সবমিলে ১০-১২ টি চিঠিপত্র আসে। থাকে চাকুরির ইন্টারভিউ কার্ডও। এখন কিছু আধুনিকায়নের কাজ চলছে।’
চিঠি এলে বিতরনের দায়িত্বে আছেন স্বপন তাঁতী। তিনি বলেন, ‘সাইকেল নিয়ে যখন চা-বাগানের ভেতরে কারো চাকুরির ‘এপয়ন্টমেন্ট লেটার’ পৌঁছে দিলে যে আনন্দ দেখা তা অতুলনীয়।’
১৯২৩ সালে টিন দিয়ে তৈরি পোস্ট অফিসটি লাল রং করে রাখা হয়েছিল, এখনও সেই লালেই আছে। পোস্ট অফিসটির সদর দরজার ওপর একটি সাইনবোর্ড লাগানো আছে। লাল কালিতে লেখা সাইনবোর্ড জ্বল জ্বল করে জানান দিচ্ছে শত বছর পেরিয়েও আমি আছি!
জানা যায়, এটিই চা শিল্পাঞ্চলের প্রথম পোস্ট অফিস। সেই সময় এ অঞ্চলের চা বাগানের মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি। বাগান ব্যবস্থাপনায়ও ছিলেন ব্রিটিশরা। তারা থাকতেন চা-বাগানের বাংলোতে। সেসময় চা বাগানে শ্রমিকের প্রয়োজন দেখা দিলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে শ্রমিক আনা হয়েছিল। তখন এ অঞ্চল ছিল ত্রিপুরা রাজার অধীনে। সেই সময় এই পোস্ট অফিসটি ছিল চা বাগানে পত্র যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এখন চিঠির প্রয়োজন ফুরিয়েছে, চিঠির স্থান এখন দখল করেছে ই-মেইল, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলো। কিন্তু চিঠির আবেদন বরাবরই যেন প্রিয়জনের স্পর্শের সাথে সম্পৃক্ত।
তবে, চা-শিল্পাঞ্চলের প্রথম পোস্ট অফিস হিসেবে কালীঘাট পোস্ট অফিসের আলাদা এক মর্যাদা রয়েছে। শতবর্ষের ঐতিহ্য নিয়ে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।







