তারিক হাসান! শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এক নিভৃতচারী। পেশা শিক্ষকতা আর নেশায় প্রকৃতি পাগল মানুষ। তার অসাধারণ আলোকচিত্র মুগ্ধ করে প্রকৃতি ও পাখিপ্রেমীদের। প্রচার বিমূখ তারিক হাসান সম্প্রতি তুমুল আলোচনায় এসেছেন তার হাতে লাগানো ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’র সৌরভে।

বর্ষায় শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি মানুষ, দূর থেকে আসা পর্যটক সবার মন রাঙিয়ে দিচ্ছে ২০২১ সালে তারিক হাসানের লাগানো দুর্লভ ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’। শ্রীমঙ্গল কলেজ রোড কবরস্থানের পাশে লাগানো এই বৃক্ষটি আজ সকলের চোখ-মন চোখ জুড়িয়ে দিচ্ছে। বহু পর্যটক এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’র সাথে। সেই ‘লাল সোনাইল’ গরমে শান্তির পরশও দিচ্ছে শ্রান্ত পথিককে।

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় তিনি নিজ উদ্যোগে এরইমধ্যে প্রায় ১০০টির মতো ভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করেছেন। প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী শিক্ষক তারিক হাসানের লাগানো চারাগুলো সময়ের ব্যবধানে এখন ছায়াবৃক্ষ ও সৌন্দর্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আজ ৪ মে (সোমবার) শহরের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. নাজেম আল কোরেশী রাফাতের বাসার সামনে দু’টি ক্যাসিয়া জাভানিকার চারা রোপণ করেন তিনি। ডা. রাফাত জানান, আমাদের বাসার সামনের ছোট কালভার্টটির পাশে দু’টো ক্যাসিয়া জাভানিকার চারা গাছ লাগানো হয়। এই কালভার্টটিতে প্রতিদিন অনেক পথচারী বসে বিশ্রাম নেন। আশা করি, কয়েক বছর পর যখন গাছগুলো বড় হবে, তখন ক্লান্ত পথিকরা এই গাছের সুশীতল ছায়ায় একটু প্রশান্তি খুঁজে পাবেন।

এখন শ্রীমঙ্গলের পথের দু’পাশে ফুটছে কৃষ্ণচুড়া, জারুল, সোনালু আর দুর্লভ ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ যাকে আদর করে ‘লাল সোনাইল’ ডাকে। বৃক্ষপ্রেমিক তারিক হাসান জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে জন্ম নেয়া ক্যাসিয়া জাভানিকা একটি দ্রুত বর্ধনশীল গাছ, যা প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে এ গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। এই প্রজাতির গাছটিতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ভেষজ গুণও। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই গাছের অংশ।

বৃক্ষপ্রেমিক তারিক হাসানের লাগানো এই ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ এখন শুধু একটি গাছ নয়, এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য, প্রশান্তি আর প্রকৃতির এক জীবন্ত প্রতীক, গ্রীষ্মের দাবদাহে একটুখানি স্বস্তি।








