‘আমরা সর্বকালের সেরা একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি। তিনি জানেন, তাকে সম্মান করি। আশা করি আমাদের সঙ্গে তিনি থাকবেন। একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়, অনেক গোল দিয়েছেন। একজন বিজয়ী, একজন নেতা। আমাদের জন্য তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত কারণে আমরা একে অপরের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করেছি, এখানে প্রথমদিন থেকেই তিনি আমাকে সবকিছুতে অনেক সাহায্য করেছেন। সত্যিই আশা করি তিনি আমাদের সাথে থাকবেন।’
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকবেন এমন আশার কথা এভাবেই বলেছেন কদিন আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে নাম লেখানো ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরো।
রিয়াল মাদ্রিদে বেশ কয়েক মৌসুম রোনালদোর সতীর্থ ছিলেন কাসেমিরো। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিআর সেভেন তাকে নতুন পরিবেশে সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করছেন।
পর্তুগিজ মহাতারকার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে যেতে চাওয়ার খবর নিয়ে গত দলবদলে কম নাটক হয়নি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেড ডেভিলদের খেলতে না পারার হতাশা থেকে ৩৭ বর্ষী মহাতারকা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে খবর আসে। অন্য ক্লাবের দলে টানতে অনাগ্রহ এবং ইউনাইটেড তাকে বিক্রি করতে না চাওয়ায় রোনালদোকে ওল্ড ট্রাফোর্ডেই থেকে যেতে হয়েছে।
রোনালদোকে নিয়ে নানা ঘটনার পর কাসেমিরোর ইউনাইটেডে আসা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। রিয়াল ছেড়ে ৩০ বর্ষী ব্রাজিলিয়ান এমন এক ক্লাবে এলেন, যাদের এবার ইউরোপা লিগ খেলতে হবে। কাসেমিরো অবশ্য জোর দিয়ে বলছেন, মাদ্রিদে নয় বছর থাকার পর একটি নতুন চ্যালেঞ্জের জন্যই এসেছেন।
‘রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আমার বিদায়ের মুহূর্তে বলেছিলাম, একটি চক্রের সমাপ্তি হচ্ছে তা উপলব্ধি করেছি। আমার অনুভূতি ছিল এমন, রিয়ালের জন্য সবকিছু দিয়েছি। ৩০ বছর বয়সে নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে করছি। অনেককিছু শিখতে চাই। পরিবর্তন চাই।’
‘তিন বছর আগে হলে আমার এই পরিবর্তনের ইচ্ছা থাকতো না। এখন বয়স ৩০ হওয়ায় ইচ্ছাটা উপযুক্ত। নিজেকে বালক মনে হচ্ছে। সবার সহায়তা চাই। খেলতে চাই, খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে চাই।’
২০১৩ সালের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতেনি ইউনাইটেড। এবার তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই নেই। তারপরও রেড ডেভিলদের জার্সিতে ট্রফি জয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কাসেমিরোর।
‘আমার ঝুলিতে ৫টা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আছে, মানে এই নয় ম্যানচেস্টারের হয়ে জিততে চাই না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সবাই এটি জিততে চায়। এই জিনিসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
রিয়াল থেকে আবেগি হয়ে চোখের পানি ফেলে বিদায় নেয়া কাসেমিরো নতুন ক্লাবে বেশ মানিয়ে নিচ্ছেন। জানিয়েছেন, ‘প্রথমদিন থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে সুন্দরভাবে কাটছে। দলেই সবাই, এমনকি কোচও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে দিচ্ছেন।’








