ঢাকা শহরে গাড়িচালকরা অনবরত হর্ন বাজাতেই থাকেন উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, অনবরত হর্ন বাজানো চালকদের বিরুদ্ধে স্পটেই ট্রাফিক সার্জেন্টরা মামলা করতে পারবেন।
এছাড়া মোটরসাইকেলে স্ত্রীসহ তিন-চারটি বাচ্চা নিয়ে ফ্যামিলি রাইড বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছনে, মোটরসাইকেল ফ্যামিলি রাইড নয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাহন।
আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পুলিশ, ছাত্র, জনতা ও রমনা মডেল থানা এলাকার নাগরিকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোটরসাইকেলের সামনে তিন বছরের বাচ্চা, সঙ্গে আরও দুই বাচ্চা, পেছনে চালকের স্ত্রী এবং তার কোলেও বাচ্চা। মোটরসাইকেল ফ্যামিলি রাইডের জন্য নয়। আপনারা স্ত্রী-সন্তানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এভাবে মোটরসাইকেল রাইড করেন; যা খুবই দু:খজনক। ট্রাফিক দিয়ে এ ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল ফ্যামিলি রাইড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
অনবরত হর্ন বাজানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের গাড়িচালকরা সমানে হর্ন বাজাতে থাকেন। হর্ন দিয়ে কান ফাটায়ে ফেলেন। স্কুল-কলেজ এমনকি হাসপাতালের সামনে সমানে হর্ন দেওয়া হয়। এই হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আইন নেই। তবে ব্যবস্থা আমি নেবো। ইতোমধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি ও চিঠি দিয়েছি। পরিবেশ ও সড়ক আইনে পরিবর্তন এনে স্পটেই হর্ন বাজানো চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক সার্জেন্টরা মামলা দেবে।
যানজট এড়াতে যাদের বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব অনেক বেশি তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি বাসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, অফিসের কাছে বাসা হলে গাড়ি ব্যবহার করা লাগবে না, যানজটেও পড়তে হবে না। পায়ে হেঁটে বাসা থেকে অফিসে যেতে পারবেন। এর ফলে গাড়ি ও অটোরিকশা কমে আসবে এবং যানজট কমে আসবে।
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন: মাদক সেবকদের টাকার দরকার হলে তারা ছিনতাই করে। মাদক নির্মূল, ডিলারদের ধরা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে করতে হবে। সব দায়িত্ব পুলিশের ঘাড়ে ছেড়ে দিলে এতো দায়িত্ব পুলিশের একার করা অত্যন্ত কঠিন।
ছিনতাই প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমার কাছে যে রিপোর্ট তাতে ঢাকায় ছিনতাই অনেক বেড়ে গেছে। ছিনতাইয়ের মধ্যে অধিকাংশ মোবাইল ছিনতাই হচ্ছে। বাসে যাত্রী বসে থাকে পাশ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে দৌড় দেয়। এছাড়া যাত্রীদের ছুরির ভয় দেখিয়ে মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে যায়। মোবাইল ছিনতাই অনেক হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন: ঢাকায় মোবাইল ছিনতাই বেড়েছে এজন্য আপনাদের মোবাইলগুলো সাবধানে রাখবেন যখন বাইরে বের হবেন।
গত এক মাসে নানবিধ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে শেখ সাজ্জাত আলী বলেন: সর্বশেষ তাবলীগ জামাত নিয়েও আমাদেরকে বড় ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাবলীগ জামাতের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু মতপার্থক্য সমাধানের জন্য মারামারি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি উচিৎ নয়। তিনজন মানুষের প্রাণ গেলো। আমরাতো আলোচনার টেবিলে বসে অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু সমাধান না হওয়ার কারণে তিনটি প্রাণ চলে গেলো। এই দায়িত্ব কে নেবে? ইসলামে এ ধরনের সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না।
‘আপনাদের (তাবলীগ জামাত) সমস্যা থাকলে টেবিলে বসে সমাধান করেন। যত্রতত্র মিছিল, রাস্তা আটকিয়ে দেওয়া; এর ফলে সড়কে ব্যাপক যানজট। ঢাকাবাসীর ব্যাপক দুর্ভোগ ও কষ্ট হয় যানজটের কারণে। মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে যেতে পারে না, বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে যেতে পারে না, স্কুলে সময়মতো বাচ্চারা পৌঁছাতে পারে না। তাদের কথা যদি আমরা না ভাবি তাহলে দুই-আড়াই কোটি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ দিবেন। তাই কোনো একটি অনুষ্ঠান, মিছিল করতে গিয়ে অন্যের দুর্ভোগ টেনে না আনি।’
মিটিং-মিছিল অবশ্যই রাজনৈতিক দলের অধিকার জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন: যত্রতত্র মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ হয় তাহলে ট্রাফিক খুব সমস্যা হয়। কোনো রাস্তা যদি এক ঘণ্টা বন্ধ থাকলে এর রেশ সাত-আট ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এজন্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলের মিটিং-মিছিল ও সভা-সমাবেশ রাস্তার পরিবর্তে বদ্ধ জায়গায় করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা ও রমনা থানা এলাকার নাগরিকরা ডিএমপি কমিশনারের কাছে তাদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত সকলের কথা মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।







