এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী ফয়জুল করিম বলেছেন, সত্য কথা বলার কারণে সার্জিস আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বিস্মিত ও ব্যথিত।
মঙ্গলবার ১২ আগস্ট বিকেলে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
আজকে বিএনপির প্রতি করুণাও হয়। যাদের আন্দোলনের ধারায় তোমরা মুক্ত হয়েছিলে, আজ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিলে। যদি সার্জিসরা না থাকতো, তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার স্বপ্ন দেখার সুযোগ হতো না। বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারতেন না। আর খোলা আকাশের নিচে মুক্তভাবে রাজনীতি করার সুযোগও মিলতো না। অথচ আজ সেই সার্জিস সত্য বলার কারণে মামলার মুখে পড়লো। জনগণ বিএনপির এই ঔদ্ধত্য মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, সাদা পাথর লুটপাট চলছে, অথচ আমি পাথর চুরির পক্ষে কখনও কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম, পাথর থাকা এলাকা সংরক্ষিত করে দেশের খনিজ পাথর উত্তোলনের সুযোগ দিতে হবে, ভারত থেকে চড়া দামে নষ্ট পাথর আমদানি বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, আমার বক্তৃতার কারণেই নাকি পাথর চুরি হয়েছে! এটা চরম বোকামি। এখানে আপনার বক্তব্যটি পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে ঠিক করে দিলাম। পরিবেশ উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি পাথর সংরক্ষণ করার পরিবর্তে লুটের সুযোগ করে দিয়েছেন। পাথর লুটের কারণে এখন কিছু লোককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত পাথর কি একদিনে সরানো হয়েছে, নাকি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চলেছে? মাসের পর মাস যারা পাথর চুরি করেছে, তাদের তখন বহিষ্কার করা হয়নি। আমি আগেই বলেছি, চাঁদা তুললে পুরস্কার, ধরা পড়লে বহিষ্কার, আর ভাইরাল হলে গ্রেফতার।
এতদিন চাঁদা তুলেও বহিষ্কার হয়নি, পাথর চুরি করেও হয়নি। কিন্তু ধরা পড়ার পরই বহিষ্কার করা হলো। দেখুন অবস্থাটা কেমন! ৫ হাজারেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু চাঁদাবাজি কি কমেছে? আপনারা কি দেখছেন চাঁদাবাজি কমেছে? এগুলো শুধু চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা, আই ওয়াশ।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (মোমেনশাহী বিভাগ) জি.এম. রুহুল আমীন, জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আজিজুর রহমান (জার্মানি), কিশোরগঞ্জ জেলা সদর দ্বীনি সংগঠনের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম ফারুকীসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








