জনপদ

ভিডিও কলে প্রবাসী স্বামীর গালিগালাজে বিষপানে ঝুমুরের মৃত্যুতে মামলা

ভিডিও কলে প্রবাসী স্বামীর গালিগালাজে বিষপানে ঝুমুরের মৃত্যুতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

‘বিষপান করে আত্মহত্যা করো’, ভিডিও কলে প্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে এমন কথা বলার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর মৃত্যুর ঘটনায়। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার মামলা করেছেন তার বোন। মামলায় ঝুমুরের প্রবাসী স্বামীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান। তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

ঝুমুরের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলাটি করেন। আসামিরা হলেন ঝুমুরের কুয়েতপ্রবাসী স্বামী কাজী সাহাবুদ্দিন, শাশুড়ি রুনু বেগম, দুই ননদ শারমিন কাজী ও নাজমিন কাজী এবং ননদের স্বামী সাইদুল হাওলাদার।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ভিডিও কলে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তার স্বামী সাহাবুদ্দিন। এ সময় তাকে বিষপান করে আত্মহত্যা করতে বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাবার বাড়িতে ঘাস মারার বিষ পান করেন ঝুমুর। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সামাজিকভাবে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঝুমুরের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে ঝুমুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।

তিন বছর আগে কাজের জন্য কুয়েতে চলে যান সাহাবুদ্দিন। এরপর তার নির্দেশে মা, বোন ও বোনজামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ডিসেম্বরে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন ঝুমুর।

ঝুমুরের বাবা করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং মেয়ের সৌন্দর্য নিয়ে আপত্তিসহ নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করা হতো। এ ছাড়া সাহাবুদ্দিনের বিদেশযাত্রার সময় তার পরিবার পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত করিম খান দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আর কোনো বাবা-মাকে যেন এভাবে অকালে মেয়েকে হারাতে না হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়:আত্মহত্যা কলেজছাত্রী মৃত্যু বিএম কলেজ মামলা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…