গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া মোড়ে হামলায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার হত্যা মামলায় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ ১১৮ জনকে আসামী করে সদর থানায় মামলা হয়েছে।
গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) নিহত দিদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো পনেরো শত জনকে আসামি করে মোট ১৬১৮ জনের নামে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বেদগ্রাম মোড়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে দলীয় সভা-সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর গাড়িবহরের সাথে জিলানীর গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছিলেন। তাদের গাড়িবহরটি জেলা সদরের ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঠেকাতে গেলে হামলাকারীদের সাথে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার নিহত হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও তার স্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা রত্নাসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।
ঘটনার ৫দিন পর মঙ্গলবার নিহত দিদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো পনেরো শত জনকে আসামি করে মোট ১৬১৮ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের আগে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটকের পর জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার বিদায়ি ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, দিদার হত্যা মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, নিহত দিদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের দায়ের করা মামলায় এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্যদের আসামী করা হয়েছে, তা রীতিমত একটা হাস্যকর। কারণ আওয়ামী লীগ কোনদিনও হত্যার রাজনীতি করে না। তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।








