কেপ ভার্দে, পশ্চিম আফ্রিকার একটি দ্বীপদেশ, অবস্থান মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরে। কেপ ভার্দে বা কাবো ভার্দে, আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিক অব কাবো ভার্দে নামে পরিচিত দেশটি। দশটি আগ্নেয়গিরির দ্বীপ নিয়ে গঠিত। আয়তন ৪,০৩৩ বর্গকিলোমিটার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণনায় জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন। এ তো গেল ভৌগোলিক পরিচিতি। গত একদিনে বিশ্বের আনাচে কানাচেতে পৌঁছে গেছে তাদের আরেক পরিচিতি, যাকে বলা যায় ফুটবল পরিচিতি। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে আইসল্যান্ডের পর বিশ্বকাপে খেলার টিকিট অর্জন করেছে কেপ ভার্দে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ৭০এ।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আফ্রিকান অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই করেছে কেপ ভার্দে। ‘ডি’ গ্রুপে তারা বাছাইয়ে ১০টি ম্যাচ খেলেছে, ৭টিতে জিতেছে, হেরেছে একটিতে, দুটি করেছে ড্র। সবশেষ পাঁচ ম্যাচের কোনটিতে হারেনি, চারটিতে জিতেছে, ড্র একটিতে। ক্যামেরুনের সাথে জয়ের পর লিবিয়ার সাথে ৩-৩ গোলে ড্র করে কেপ ভার্দে। তার আগে মৌরিতানিয়াকে ২-০ গোলে হারায়। অ্যাঙ্গোলাকে ২-১ গোলে, মরিশাসকে ১-০ গোলে, লিবিয়াকে ১-০ এবং ইসোয়াতিনিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাছাইয়ে। একমাত্র ক্যামেরুনের কাছে প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল তারা। আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে বেশি আটবার বিশ্বকাপ খেলা ক্যামেরুনের গ্রুপ থেকে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে কোয়ালিফাই করেছে কেপ ভার্দে। দলটিকে ডাকা হয় ব্লু শার্কস।
কেপ ভার্দের কোচের নাম পেদ্রো লেইটাও ব্রিটো। কেপ ভার্দের সাবেক খেলোয়াড় তিনি। ব্রিটোর বয়স এখন ৫৫ বছর, সেন্ট্রার ব্যাক হিসেবে খেলতেন। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়ার পর অধিনায়কত্বও করেছিলেন। তিনি ২৮ ম্যাচ খেলে গেছেন জাতীয় দলে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দলের কোচের দায়িত্ব নেন। ৪-৩-৩ আক্রমণাত্মক ফর্মেশনে খেলাতে পছন্দ করেন শিষ্যদের।
কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বনিম্ন বয়স যায়, তার ২২ বছর বয়স। আর সর্বোচ্চের বয়স ৩৯ বছর। দলটিতে ৩০এর কোটা পার করা খেলোয়াড় আছেন ১০ জন। বাকি সবার বয়স ২২-২৯ এর মধ্যে।
কেপ ভার্দের বর্তমান দলে ৯জন বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় রয়েছেন। তারা- স্টিভেন মোরেইরা, জন্মগ্রহণ করেছেন ফ্রান্সে। জামিরো মন্টেইরো গ্যারি রদ্রিগুয়েস, জন্মেছেন নেদারল্যান্ডসে। রুবেন পিনা, রায়ান মেন্ডেস, ভোজিনহা, ডিরয় দুয়ার্তে, লারোস দুয়ার্তে এবং ইয়ান্নিক সেমেডো বাকিরা।
কেপ ভার্দের বংশোদ্ভূত কিছু খেলোয়াড় অন্য জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন একটা সময়। তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন ন্যানি, পর্তুগালের হয়ে খেলেছেন। সেনেগালের হয়ে খেলেছেন রোনালদো জর্জি পাইরেস। প্যাট্রিক ভিয়েরা ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। আবার পর্তুগালের হয়ে খেলা নুনো মেন্ডেস, রাফায়েল লিয়াও কেপ ভার্দের বংশোদ্ভূত।

কেপ ভার্দের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার একটি স্টেডিয়াম আছে। নাম স্টেডিও ন্যাসিওনেল ডি ক্যাবো ভার্দে। স্টেডিয়ামটি অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ব্যবহার করা হয়। এটিই তাদের জমে ওঠা ফুটবলের প্রাণকেন্দ্রও।
কেপ ভার্দে ১৯৭৫ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। তার আগেই ১৯৫৩ সাল থেকে স্থানীয় চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন হয়ে আসছে। তাদের ঘরোয়া ফুটবল লিগের নাম কেপ ভার্দিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, ১৯৭৬ সালে যাত্রা করে। এছাড়া ইন্ডিপেনডেন্ট কাপ হয়। ১২টি ক্লাব প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নেয়। তাদের তারকা সেন্টারব্যাক লোগান কস্তা একমাত্র ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলেন। তার জন্ম ফ্রান্সে, যুব দলের হয়ে খেলার পর কেপ ভার্দে দলে যোগ দেন। আরও কিছু খেলোয়াড় ইউরোপে খেলেন, বিশেষ করে পর্তুগীজ, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইসরায়েল, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, রাশিয়া এবং ফিনল্যান্ডের লিগে খেলেন।
দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, যা দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। এর আগে তাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। এর বাইরে ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে বক্সার ডেভিড ডি পিনা ছেলেদের ফ্লাইটওয়েট ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল, যা দেশটির প্রথম অলিম্পিক পদকও। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো নিয়ে হওয়া আন্তর্জাতিক আসর ‘আমিলকার ক্যাব্রাল কাপ’ জয়ের ইতিহাস রয়েছে দেশটির।

কেপ ভার্দের সম্পদের পরিমাণ খুব সীমিত। তবে এখানে সীমিত আকারে খনিজ, লবণ, পজ্জোলোনা, ব্যাসল্ট, কোয়ালিন, জিপসাম এবং লাইমস্টোন রয়েছে। কম বৃষ্টিপাতের কারণে স্বাদু পানির সংকট রয়েছে দেশটিতে। তবে মেইজ, বীন, কলা, আখ এবং কফি উৎপাদন হয়। দেশটির অর্থনীতি আমদানির উপর নির্ভরশীল।







