ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডার অন্যতম প্রদেশ আলবার্টাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খেলা বা ষড়যন্ত্র কোনটাই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পার্লামেন্ট হিলে প্রাদেশিক প্রিমিয়ারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন,” আমি সব সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্টভাবে বলেছি কানাডার সার্বভৌমত্বকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। ফরাসি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কানাডার স্বাধীনতা সব সময়, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সম্মান করা উচিত। তবে অন্যান্য প্রাদেশিক নেতাদের মতো কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাননি প্রধানমন্ত্রী। অনেক প্রিমিয়ার যেখানে এই বৈঠককে “অগ্রহণযোগ্য” এমনকি “রাষ্ট্রদ্রোহ” বলেও আখ্যা দেন, সেখানে কার্নি তুলনামূলক সংযত অবস্থান নেন।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকের খবর প্রকাশের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তিনি আশা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সব সময় কানাডার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।
যুক্তরাষ্ট্র–আলবার্টা বৈঠক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার খবরে বলা হয়, আলবার্টার একজন আইনজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মী জেফ্রি রাথ যুক্তরাষ্ট্রের “উচ্চপর্যায়ের” কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। যদিও তিনি কারা ছিলেন তা প্রকাশ করেননি। রাথ দাবি করেন, মার্কিন কর্মকর্তারা আলবার্টা স্বাধীন হলে আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন যার মধ্যে ভবিষ্যৎ আলবার্টাকে টিকিয়ে রাখতে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ সুবিধার ধারণা উঠে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়টি গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করে জানায়,“এ ধরনের বৈঠক নিয়মিতভাবেই সিভিল সোসাইটি গ্রুপগুলোর সঙ্গে হয়ে থাকে। কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসও একই বক্তব্য দেয়।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি এই বৈঠককে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের সমান বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,“বিদেশি শক্তির সহায়তায় কানাডাকে ভাঙার চেষ্টা করার একটি পুরোনো নাম আছে তা হলো রাষ্ট্রদ্রোহ। তিনি আরও বলেন, গণভোটের অধিকার থাকলেও বিদেশি সরকারের কাছে সহায়তা চাওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।বৈঠকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বলেন, কানাডার পেছনে গিয়ে বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”তিনি আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্পষ্টভাবে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
তবে স্মিথ তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন,“আলবার্টার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ কনফেডারেশনের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আমি এক মিলিয়ন নাগরিককে দোষারোপ করতে পারি না। তাদের অভিযোগ বাস্তব। তিনি দাবি করেন, আগের ট্রুডো সরকারের নীতির কারণেই এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে স্মিথও বলেন,যুক্তরাষ্ট্রকে আলবার্টার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানানো হবে এবং বিষয়টি কানাডায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তোলা হবে।
আলবার্টার বিরোধী দলীয় এনডিপি নেতা নাহিদ নেনশি স্মিথকে সরাসরি দায়ী করে বলেন,“এই সংকট তৈরি হয়েছে ড্যানিয়েল স্মিথের কারণেই। তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং ট্রাম্পঘেঁষা রাজনীতি করেছেন নিজের স্বার্থে।
ফেডারেল এনডিপির এমপি হেদার ম্যাকফারসন একে স্পষ্টভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।অন্যদিকে ক্যালগেরির লিবারেল এমপি কোরি হোগান বলেন, যারা এই বৈঠক করেছে তারা আলবার্টার পক্ষে কথা বলার কোনো অধিকার রাখে না। এটি বিপজ্জনক এবং বন্ধ হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য ট্রাম্পের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কানাডার উপরে টেরিফসহ নানা ধরনের আঞ্চলিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। আলবার্টার উপরে হস্তক্ষেপ সহ নানা এই ঘটনাকে ঘিরে কানাডার ভেতরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই আলবার্টা ও কুইবেকের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দেশটির জাতীয় ঐক্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি যেখানে সংযমের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছেন, সেখানে প্রাদেশিক রাজনীতিতে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপে কানাডিয়ানদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি’ র মত সাধারণ মানুষের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা সবার আগে বলে মনে করেন তাঁরা।







