সিরিয়াকে “সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র” হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। একই পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের দেশটির স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে কানাডা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটি। যখন সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের এক বছর পূর্তির উদযাপন প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় এই ঘোষণা এলো।
কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সিরিয়ার “সন্ত্রাসবাদী” তকমা প্রত্যাহার করছে, এমনকি সিরিয়ার বিরোধী গ্রুপ হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) উপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠীটি এক সময় আল-আসাদকে অপসারণের জন্য একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এটিকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এই পদক্ষেপগুলো হালকাভাবে নেওয়া হয়নি এবং এটি তাদের মিত্র দেশগুলোর, যেমন যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা উল্লেখ করেছে, সিরিয়ার নতুন সরকার দেশটির স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং নাগরিকদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যত গড়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০১২ সালে কানাডা সিরিয়াকে “সন্ত্রাসবাদ সমর্থক রাষ্ট্র” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, কারণ বাশার আল-আসাদ সরকার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তবে, ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার নতুন নেতারা, বিশেষত প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, তাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করছেন এবং তারা দেশটির সহিংস অতীত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কাজ করছেন।
এই পদক্ষেপের মধ্যে কানাডা সিরিয়ার ৫৬ জন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে আল-আসাদের প্রাক্তন কর্মকর্তারা এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
২০১৬ সালে আল-শারা যখন আল-কায়েদা থেকে আলাদা হয়ে যান, তখন তার লক্ষ্য ছিল সিরিয়ায় একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে, সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয় এবং ঘোষণা করে যে, তার দেশ “বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে ন্যায্য স্থান পুনরুদ্ধার করছে” এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে কাজ করছে।
এটি সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলি সিরিয়ার নতুন সরকার ও প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে এক নতুন যুগের সূচনা দেখছে।







