রাজধানীর আদাবর এলাকায় যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে এক নারীর করা মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই নারীর স্বামী সুলতান মাহমুদ মন্ডলকে। যিনি জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ভুক্তভোগী নারী আদাবরের মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা। ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সুলতান মাহমুদ মন্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি মেয়ে (১০) ও একটি ছেলে (৬) রয়েছে।
এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০ লাখ টাকা এনে দেন বলেও দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে স্বামী পুনরায় বাবার বাড়ি থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। বাদীর বাবা মারা যাওয়ার পর বর্তমানে বিধবা মায়ের কাছ থেকে আর টাকা আনা সম্ভব নয় জানালে স্বামী ক্ষিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আদাবরের মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে আহত করেন। পরে ঘরের একটি কাঁচের ইলেকট্রিক কেটলি (জগ) ভেঙে সেটি দিয়ে তার দুই হাতে আঘাত করা হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
তবে আসামি সুলতান মাহমুদের অভিযোগ তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।
বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজিএমসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত ও আইনগত বিষয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







