শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমাতে বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক-শিক্ষক পরিষদ (পিটিএ) কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রোববার ২১ জুন ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, কার্যকর পিটিএ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ায়, ঝরে পড়া কমায় এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করে।
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পিটিএ শক্তিশালীকরণ এবং শিখন ঘাটতি পূরণে বুনিয়াদি উদ্যোগ: একসঙ্গে শেখা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা এবং শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসএসসি পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ক্লাসে পাঠ না বোঝায় ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ। এজন্য ডায়াগনস্টিক অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, পিটিএ শিক্ষাক্ষেত্রের একটি বড় অব্যবহৃত সম্পদ। এটি কার্যকর হলে শিক্ষকদের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে।
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড (ডেভেলপমেন্ট) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে শিখন ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক জানায়, রংপুর জেলার সদর, বদরগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিটিএ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে পিটিএ কার্যকর, সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমও বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে ব্র্যাক চালু করেছে ‘অ্যাক্সিলারেটেড ক্যাচ-আপ লার্নিং প্রোগ্রাম’। তিন বছর মেয়াদি এই উদ্যোগ ৬টি উপজেলায় ৭৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রোগ্রামে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য প্রতিকারমূলক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির সিনিয়র অ্যাডভাইজার প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মণ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অভিভাবকরা সন্তানের শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকলে শিক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।







