এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চীনে অনুশীলন ক্যাম্প করতে সোমবার রাতে রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। সেখান থেকে গেমসের উদ্দেশ্যে জাপান যাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আসরে কিছু করতে না পারলেও কিছু যায়-আসে না বলছেন কোচ পিটার জেমস বাটলার।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, এই মানের টুর্নামেন্টে হেরে গেলেও কিছু এসে যায় না। হ্যাঁ, ভেতরে ভেতরে তো কষ্ট হয়ই। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল খেলোয়াড়দের এই পর্যায়ে খেলার সুযোগ দেয়া। মনে করি এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। আমরা দারুণ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এই চ্যালেঞ্জটির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এটি সবার জন্যই শেখার একটি বড় সুযোগ।’
বাংলাদেশের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘জুলাইয়ের ৭ তারিখে আমাদের একটি ৩৩ সদস্যের তালিকা জমা দিতে হয়েছিল। কিন্তু প্রচুর ভুল বোঝাবুঝি বা তথ্যের অনিয়ম ছিল যে কোন কোন খেলোয়াড়কে পাওয়া যাবে। আমরা ৩৩ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল জমা দিয়েছিলাম। সেটি ছিল তিন মাস আগে। আর টুর্নামেন্টের তিন মাস আগে চূড়ান্ত তালিকা জমা দেয়া পৃথিবীর কোথাও সম্ভব নয়, একদমই না। খেলোয়াড়রা চোটে পড়ে, ফর্ম হারায়, আরও নানা কিছু ঘটে।’
‘এরপর আমরা মূলত একটি ২০ জনের দল জমা দেই। কারণ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন তিনটি কোটা কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে আমাদের কেবল ২০ জন খেলোয়াড় নেয়ার সুযোগ ছিল। ৭, ৮, ৯ বা ১০ জুলাই যারা ফর্মে ছিল এবং পাওয়া যাচ্ছিল, তাদের মধ্য থেকে ২০ জনকে বেছে নেয়া বেশ কঠিন ছিল। দল ছোট করতে হলেও মনে মনে জানা ছিল যে পরে কোন খেলোয়াড় পরিবর্তন করার নিয়ম নেই। শুনতে জটিল লাগছে? আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটা সত্যিই বেশ জটিল।’
বাফুফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘আমরা ২০ জনের একটি দল গুছিয়ে নিতে পেরেছি। বাফুফের খরচে আরও তিন জন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল, যার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ফলে আমরা কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর এবং এক-দুটি সুযোগ সৃষ্টি করার সুবিধা পেয়েছি। সেটা অনেক শক্তিশালী এবং কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।’
এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলবে ‘এফ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ সাউথ কোরিয়া, নর্থ কোরিয়া এবং মিয়ানমার। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ শক্ত হলেও এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মিয়ানমারকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।










