বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ আলিমুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) তিনি আচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, গত ৫ আগস্টের পরদিন থেকে সব দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হলেও পদোন্নতির দাবিতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলন শুরু করেন, যার সঙ্গে পরবর্তীতে কিছু শিক্ষকও যোগ দেন। এই পরিস্থিতিতেও প্রায় সবাই আমার ওপর আস্থা রেখে ক্লাস শুরু করেন।
তিনি লিখেন, বিগত কয়েক সপ্তাহে আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানি রিপোর্ট, সংবাদ ও অভিযোগ প্রচার করে যাচ্ছে। ১০টি বিভাগের মধ্যে দুইটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, যা আমার জন্য বেদনাদায়ক।
শাহ আলিমুজ্জামান লিখেছেন, যাদের জন্য আমি দিনরাত এক করে কাজ করে গেছি বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য, সেখানে তারাই প্ররোচনাকারীদের মিথ্যা প্রচারণার ফাঁদে ফেলে আমাকে ভুল বুঝছে। তাই আমার আর এই দায়িত্বে থাকা সমীচীন হবে না। আমি সরে এসেছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃঙ্খলা পালনের স্বার্থে আমি উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করব।
অধ্যাপক ড. শাহ আলিমুজ্জামান এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি চাইলে পদত্যাগ নাও করতে পারতাম। একমাত্র আচার্য ছাড়া আর কারো ক্ষমতা ছিল না আমাকে অপসারণ করার। আমি চেয়েছি, আমার সারা জীবনের অর্জন, শিক্ষক হিসেবে যে সম্মান এসেছে, তা শিক্ষার্থী-বান্ধব হওয়ার কারণেই। আমি এই অর্জন হারাতে চাই না।
তিনি বলেন, সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষা নিয়ে যে ইস্যু তৈরি হয়েছে, তা পরিকল্পিত। গত ৭ তারিখে সিন্ডিকেট করতে পারলে এটা পাস হয়ে যেত। একেবারে হুবহু তাই পাস করতাম, যে ফর্মে একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হয়েছিল। ‘জরুরী সিন্ডিকেট’ বলতে যা বুঝায় তার পরিবেশ এটা নয়। আমার পদত্যাগও বরং সহজ। আর যেহেতু শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাও করবে না, তাই আমি শিক্ষার্থীদের ক্ষতির দায় নিতে চাই না। এটা আমার ব্যক্তিত্ব ও ব্রান্ডিংয়ের বিপক্ষে।







