২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে সামগ্রিকভাবে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে বরাদ্দ সামান্য কমেছে। তবে মাধ্যমিক, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টায়অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের প্রথম বাজেট।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়তে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই এবারের বাজেটে কর্মোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং যুব কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়ন ও পরিবেশ উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্কুলে ৫ হাজার ৯৪৬টি শ্রেণিকক্ষ, ১৭ হাজার ১৬৪টি ওয়াশব্লক ও ৪ হাজার ৪৫০টি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৯২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।
সব শিক্ষার্থীকে ইএফটি’র (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ফলাফল ভিত্তিক শিক্ষা (ওবিই) পদ্ধতিতে হালনাগাদ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫১ লাখ, উচ্চমাধ্যমিকে ৮ লাখ এবং স্নাতক পর্যায়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। নতুন বাজেটে সংশোধিত পাঠ্যবই সরবরাহে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।
এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বোনাস, গ্রাচ্যুইটি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বেশি।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা
কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্টের হার বর্তমানে ১৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বিভাগীয় পর্যায়ে মহিলা পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জেলা পর্যায়ে পলিটেকনিক এবং উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
মাদ্রাসা শিক্ষায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৩৫টি ভবন নির্মাণ এবং ৫১৩টি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। ৪৯৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। ইবতেদায়ি পর্যায়ে বৃত্তি এবং এমপিওভুক্তির জন্য ৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দের প্রস্তাব ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বেশি।








