বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কঠিন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। এমন এক বাজেট পেশ করলেন যেখানে থাকছে খাতভিত্তিক নীতি কৌশল, কর্ম পরিকল্পনা ও সম্পদ সঞ্চালনের পথ। অর্থনৈতিক নেতিবাচক পরিস্থিতি যেন সাধারণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠার দৈনন্দিন জীবনে চাপ না ফেলে সেদিকেও খেয়াল রাখবে সরকার। বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতিতে কোভিডের ধকল কাটতে না কাটতেই এলো ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেল, জ্বালানী তেল, সারসহ প্রায় সব জিনিষের বাড়তি দাম। তাতেই তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে দেশিয় বাজারে ডলারের সংকট। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানও কমছে। প্রবাসী আয়ও কমতির দিকে। এমনি সংকটময় এক বাস্তবতায় এসেছে নতুন বাজেট। অর্থনীতির এই চাপ কাঁধে নিয়েই অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করলেন।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ কমাতে মূল্যস্ফীতিকে ৫.৬ শতাংশে বেধে রাখতে চায় সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মূল কৌশল হবে বিদ্যমান চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে সরবরাহ বাড়ানো।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডলারের সরবরাহ বাড়াতে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা আড়াই শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বাজেটে।
রাজস্ব আহরণে অনেক বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন তিনি। বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এমনকি বিদেশে থাকা কোন সম্পদের ওপর কর পরিশোধ করা হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের কেউ এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। বিদেশে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি দেশে আনা না হলে এর ওপর ১৫%, অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১০% এবং নগদ অর্থের উপর ৭% কর বসানোর সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সুবিধা দেবে সরকার।
এবারের বাজেটে দরিদ্রবান্ধব ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। যাতে সমাজে সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান ১৫% করহার সংক্রান্ত এসআরও’র মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন।
গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের মত সব ধরনের রপ্তানিকারকদের করহার ১২% এবং পরিবেশবান্ধব গ্রীন শিল্পের জন্য এই হার ১০% করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী।
ব্যাংকের সুদের উৎসে কর হার কোম্পানী করদাতার জন্য ১০% থেকে বাড়িয়ে ২০% করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুটির শিল্প, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষি বহুমুখীকরণ ও আইসিটি নির্ভর উদ্যোগকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে বাজেটে।







