ভারত থেকে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আনা হতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্রান্ডের অবৈধ চোরাই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ফিচার ফোন। চোরাইপথে আনা এ সব মোবাইল ফোন সেট রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল বিক্রয়কারী মার্কেটে কম দামে বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিলো চোরাচালানকারী একটি চক্র।
চক্রের মূলহোতা আবু তাহের (২৬) অবৈধ মোবাইল ফোন রাজধানীতে পাচারের জন্য কুমিল্লা-ঢাকা রুটটি ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্রান্ডের অবৈধ চোরাই মোবাইল ফোন সেট উদ্ধারসহ চক্রের মুলহোতা আবু তাহের (২৬) ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩ এর অভিযানিক একটি দল।
মোবাইল চোরাকারবারী চক্রের গ্রেপ্তার অন্য সদস্যরা হলেন- মো. মেহেদী হাসান, মো. রুবেল হোসেন ও মো. নূর নবী । অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৮০৮ টি চোরাই মোবাইলফোন, ২টি প্রাইভেটকার, এবং নগদ ৫ হাজার ৩৬৯ টাকা জব্দ করা হয়৷
রোববার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-৩ এর লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবির।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অধিক লাভের আশায় গ্রাহকের কাছে কমদামে এসব মোবাইলফোন বিক্রি করতো চক্রটি। ভারত থেকে ফোন চোরাকারবারী এই চক্রটির মূলহোতা হলেন গ্রেপ্তার আসামি আবু তাহের। সে গত ৩ বছর আগে কুমিল্লার গৌরীপুর এলাকায় একটি মোবাইল শো-রুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন। তখন থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পথে অবৈধভাবে সংঘবদ্ধ মোবাইল চোরাকারবারী চক্রের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। একপর্যায়ে মোবাইলের শো-রুমে চাকরির পাশাপাশি সে নিজেও এসব ভারতীয় ব্রান্ডের চোরাই মোবাইলের চালান আনিয়ে কুমিল্লাসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করতে শুরু করে।
অল্প সময়ে অধিক অর্থ লাভের আশায় এবং তার এই অপরাধ কর্মকান্ডটি বিস্তৃত করতে সে নিজেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। তার নেতৃত্বে চক্রটি কুমিল্লা সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত দেড়মাসে এ ধরনের ৫টি বড় চালান ঢাকায় সরবরাহ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে তাহের।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার মেহেদী এই চক্রের মূলহোতা আবু তাহেরের অন্যতম সহযোগী। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বাসিন্দা। তার এক পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে চোরাইপথে মোবাইল আমদানির চক্রে তাহেরের সাথে জড়িয়েছে বলে জানা যায়। গত দেড় মাসে সে তাহেরের সাথে মিলে ৫ টি বড় চালান এনে ঢাকায় সরবরাহ করেছে।
তাহেরের অপর সহযোগী গ্রেপ্তার রুবেল পেশায় গাড়ি চালক। প্রথমে সে রেন্ট এ কার এর গাড়ি ভাড়ায় চালাতেন৷ তাহেরের চক্রে যোগ দেয়ার পরে তাহের তাকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়ায় চালাতে দেয়। গ্রেপ্তার রুবেলসহ অন্যরা তাহেরের নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় মজুদ ও সরবরাহের কাজ করতো।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবির বলেন, এ সকল ফোনের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির নথিভুক্ত না থাকায় অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য চোরাইপথে আসা ভারতীয় এধরনের মোবাইল ব্যবহার করে থাকে।
গ্রেপ্তার আসামিরা আরও জানায়, চোরাইপথে আনা এ সকল মোবাইল তারা রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল বিক্রয়কারী মার্কেটে সরবরাহ করত।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।







