কাভা কাপ মেনস ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসরে প্রথমবার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানে চলতি আসরের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ জিতেছে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। বুধবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক পাকিস্তান। এবার একমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষেই এখনও জিততে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেমিতে জিতে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ আপাতত শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর।
এই দলটিই ২০২৫ সালে বাংলাদেশে হওয়া কাভা কাপের আসরে চতুর্থ হয়েছিল। দুরন্ত ছন্দে থাকা বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানের কাছে প্রথম হার দেখে ছন্দপতনের শুরু করেছিল। হরোষিত বিশ্বাসের দল এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে অলিখিত সেমিতে হেরে ফাইনাল খেলতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ ভলিবল দল সেখানে থামেনি, লড়াই চালিয়ে এবার ফাইনালের টিকিট কেটেছে। সেমিতে জয়ের পর বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা, ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার মিডল ব্লকার ও কুইক অ্যাটাকার নাঈম হোসেন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন চ্যানেল আই অনলাইনকে। জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শিরোপা জয়ের ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।
প্রথমবার কাভা কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলেন, সেটিও আবার দেশের বাইরে পাকিস্তানের মাটিতে। অনুভূতি কেমন?
নাঈম: প্রথমেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ বাংলাদেশ দলকে, আমাদেরকে এই সম্মানটা দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, পুরো দলসহ গোটা ভলিবল প্রেমীরা অনেক খুশি। তবে আমরা খুশিতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছি না। আমাদের কাজ এখনও কিছুটা বাকি, ফাইনাল ম্যাচ খেলতে হবে, জিততে হবে।
ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক পাকিস্তান, যারা আসরে এখনও অপরাজিত। লড়াইটা কেমন হবে, শিরোপার ব্যাপারে প্রত্যাশা কেমন?
নাঈম: পাকিস্তান অনেক শক্তিশালী দল। আমরাও লড়াই করে আসরের ফাইনালে এসেছি। পাকিস্তানের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়াই করব আমরা। ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু হবে। পুরো বাংলাদেশ দল শিরোপা জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।

আসরে বাংলাদেশ এপর্যন্ত নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ খেলেছে। দুটি ম্যাচেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জিতেছে। দুই ম্যাচের মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?
নাঈম: দুটি ম্যাচের মধ্যে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিকে এগিয়ে রাখব। কারণ বাংলাদেশের ভলিবলের ইতিহাসে এমন জয় বিরল, খুব কমই আছে। আমরা প্রথম দুই সেট হেরে প্রায় ম্যাচ হাতছাড়া করে ফেলেছিলাম। তারপর ঐতিহাসিক কামব্যাক, শেষ তিন সেট জিতে ম্যাচ জিতেছি। এমন জয় আমাদের খুব কমই আছে, যে কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে এগিয়ে রাখব।
গত আসর বাংলাদেশে হলেও জাপান-ইরানি বংশোদ্ভূত কোচ রায়ান মাসাজেদির অধীনে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে পারেনি। এবার দেশীয় কোচ ইমদাদুল হক মিলনের অধীনে ফাইনালে বাংলাদেশ। মূল প্রতিবন্ধকতা কোথায় ছিল?
নাঈম: আমরা খুশি যে, দেশীর কোচ দিয়ে এবারের আসরে আমরা সফলতা পাচ্ছি। বলতে পারেন এটা দেশের ভলিবলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়। কোচ ইমদাদুল হক মিলন স্যারের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। তিনি আমাদের ভলিবলকে সঠিক পথে পরিচালনা করছেন। তার জন্য আমরা এ আসরের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছি। তবে বিদেশি কোচ যে আমাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা, এমনটা নয়। তাদের থেকেই আমরা মর্ডান ভলিবলের সূচনা পেয়েছি। রায়ান মাসাজেদির প্রশিক্ষণেও আমরা উপকার পেয়েছিলাম। বড়ো আসরে না খেলার অভিজ্ঞতাও হয়তো আমাদেরকে ভুগিয়েছিল।
কাভা কাপের ফাইনাল খেলতে যাওয়া এই বাংলাদেশ দলের পরবর্তী লক্ষ্য কী? এসএ গেমস বা অন্যকোন আসর নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
নাঈম: আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আপাতত লক্ষ্য কাভা কাপের শিরোপা জেতা। কিন্তু টপ লেভেলে পারফর্ম করতে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আর এসএ গেমস বড়ো আসর। সেখানে আমরা ভালো করতে চাই। সুতরাং তার জন্য আমাদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

পাকিস্তানে বাংলাদেশ দল কেমন আতিথেয়তা পেয়েছে? সার্বিকভাবে পাকিস্তানে সবধরনের সুযোগ সুবিধা, খেলার পরিবেশ পেয়েছেন কিনা?
নাঈম: আলহামদুলিল্লাহ, পাকিস্তান চেষ্টা করেছে আমাদেরকে আপ্যায়ন করার জন্য। আর যেটুকু কমতি ছিল, আমরা সেটা ম্যানেজ করে নিয়েছি।
২০২৫ সালের আসরে বাংলাদেশের সফলতা না পাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল বলে আপনার মনে হয়?
নাঈম: বাংলাদেশ ভলিবল দলের বড় আসরে না খেলার অভিজ্ঞতা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা থাকলে হয়তো আমরা বাংলাদেশে হওয়া ওই আসরে আরও ভালো সাফল্য পেতে পারতাম।
২০২৫ সালের আসরে চ্যানেল আই’কে বলেছিলেন আপাতত ভলিবল নিয়ে কোন লক্ষ্য নেই। এখন কোন লক্ষ্যের ব্যাপারে ঠিক করেছেন কিনা?
নাঈম: হ্যাঁ, এবার আমি ভলিবল নিয়ে লক্ষ্য ঠিক করেছি। কারণ বর্তমান সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়েই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।
ভলিবলের নতুন কমিটি হয়েছে। নতুন কমিটির কাছে কীধরনের সুযোগ-সুবিধা আশা করছেন?
নাঈম: আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের মাঠের মানুষগুলোকে নতুন কমিটিতে পাচ্ছি। তারা অনেক ভালো বোঝেন যে, ভলিবলকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর আমার বিশ্বাস তারা তাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাদেরকে যেন সরকার সাহায্য করে এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ক্রিকেট-ফুটবলে মতো আমাদের দিকেও যেন সুনজর দেয়। আমাদের দিকে নজর দিলে আমরাও বাংলাদেশকে অনেক সম্মান এনে দিবো। অনেক না পাওয়ার মধ্যে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করছি, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।







