ব্রাজিলে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে সাতজন পেশাদার ফুটবলারসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে দেশটির আইনজীবী দল। ২০১৮ সালে খেলাধুলা নিয়ে জুয়াকে বৈধ ঘোষণার পর এটি সবচেয়ে বড় ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ দেশটিতে।
সেলেসাওদের রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা চার্জিং নথি প্রকাশের পর ব্রাজিলের বিচারমন্ত্রী ফ্লাভিও ডিনো ফেডারেল পুলিশকে এব্যাপারে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
গোয়াস প্রদেশের আইনজীবীদের দাবি, ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ১৩টি ম্যাচ পাতানো হয়েছে। এরমধ্যে ২০২২ সালে হয়েছে আটটি। তাদের অভিযোগ- সান্তোস, জুভেন্টুড, কুইয়াবা, ক্রুজেইরো, অ্যাথলেটিকো প্যারানান্স, ইন্টারন্যাসিওনাল এবং ফ্লুমিনেন্সের মতো ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়রা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত।
অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টায় সফল হয়নি দেশটির গণমাধ্যম। অভিযুক্তদের মধ্যে নাম আছে গ্যাব্রিয়েল টোটা, পাওলো মিরান্ডা, ইগর ক্যারিয়াস, ভিক্টর রামোস, ফার্নান্দো নেটো ও ম্যাথিউস গোমেসের।
চার্জিং নথি অনুসারে, একটি অপরাধচক্র খেলোয়াড়দের আইন লঙ্ঘন করার জন্য প্রথম দেখাতেই বড় অঙ্কের অর্থ দেয়। পরে আগে থেকে নির্ধারণ করা ফলের উপর বাজি ধরে জুয়াড়ি দল। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এমনকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথম দেখাতে প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত দেয় তারা। কাজ হয়ে গেলে চুক্তি অনুযায়ী বাকিটা পরিশোধ করে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্সি এবং বিচার মন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে ফেডারেল পুলিশকে এই মামলার তদন্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে চলতি মৌসুমের লিগ বন্ধ না করতেও ওই চিটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিএফ সভাপতি এডনাল্ডো রদ্রিগেজ বলেছেন, ‘আমি ফুটবলের মধ্যে সবধরনের অপরাধ, জালিয়াতি বা অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবো। সেই লক্ষ্যে ফিফা, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব এবং ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে এক হয়ে কাজ করছি। অপরাধীরা ব্রাজিল ও বিশ্বফুটবলের অংশ হতে পারে না।’
২০১৮ সাল থেকে অনলাইনে খেলাধুলা নিয়ে জুয়াকে বৈধ ঘোষণা করে ব্রাজিল সরকার। এরপর থেকে জুয়া খেলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। এমনকি সেলেসাওদের বিভিন্ন ম্যাচের আগে প্রায়ই জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।







