চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনলাইনে নিরাপদ থাকা শিখল দেশের ১৮ হাজার প্রান্তিক শিশু

Nagod
Bkash July

দেশের নানা অঞ্চলের প্রায় ১৮,০০০ প্রান্তিক শিক্ষার্থী শিখলো প্রযুক্তিগত স্বাক্ষরতা এবং অনলাইনে নিরাপদ থাকার কৌশল।

Reneta June

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সহায়তায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের “অনলাইনে নিরাপদ থাকি” প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ পৌঁছে যায় শিক্ষার্থীদের কাছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১,২০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যাদের মাধ্যমে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া প্রায় ১৮,০০০ শিক্ষার্থী অনলাইন এবং অনলাইনে নিরাপদ থাকার নানা বিষয়ে শিখতে পেরেছে।শিশুদের ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদেরকে অনলাইনে নিরাপদ রাখতে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

শনিবার গাজীপুরের মাওনায় ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টে সমাপনী অনুষ্ঠানে “অনলাইনে নিরাপদ থাকি” শীর্ষক প্রকল্পটি তাদের অর্জনের কথা তুলে ধরে। স্বশিখনের মাধ্যমে শিশুরা যাতে শিখতে পারে, সে জন্য কোর্স উপরকণ হিসাবে বাংলা ভাষায় ভিডিও তৈরি করা হয়। এরপর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের মাঝে।

প্রযুক্তি নির্ভর যুগে দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে শিশুদের এগিয়ে নিয়ে যেতে মোট ছয়টি কোর্সে সাজানো হয় এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

প্রথম কোর্সে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল মিট, গুগল ডক, গুগল শিট, গুগল ফর্ম এবং গুগল স্লাইডের ব্যবহার শেখানো হয়। এই কোর্সটি মূলত সাজানো হয় শিক্ষকদের জন্য। দ্বিতীয় কোর্সে শেখানো হয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন কার্যক্রম, প্ল্যাটফর্মস, ডিজিটাল সুরক্ষা ও নাগরিকত্বের মৌলিক বিষয়সমূহ। শেখানো হয় ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিষয়েও।

ইন্টারনেটের সহমর্মিতা ও ইতিবাচকতা, ইন্টারনেট আচরণ শেখানো হয় তৃতীয় কোর্সে। চতুর্থ কোর্সে অনলাইনে গোপনীয়তা, শেয়ারিং, ভুয়া পরিচয়, ভুয়া সংবাদ, অনলাইনে অবিশ্বস্ত তথ্য চিহ্নিত করা, ইন্টারনেটে তথ্য অন্বেষণ শেখানো হয়।

পঞ্চম কোর্সটি সাজানো হয় অনলাইন যোগাযোগে ইতিবাচকতা, হয়রানি হ্রাস, বিষণ্নতা, লেখাপড়া সংক্রান্ত জটিলতা, স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরির মত বিষয় নিয়ে। অনলাইনে নেতিবাচক আচরণ সামলানো এবং অনলাইন হয়রানি সম্পর্কে অভিযোগ করা শেখানো হয় সর্বশেষ পর্বে।

প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগ দেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক মো. শাহ আলম; মাধ্যমিক ও উচশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. একিউএম শফিউল আজম; অতিরিক্ত সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক দিলীপ কুমার বণিক; জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মোঃ মশিউজ্জামান; এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের এডুকেশন, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পরিচালক সাফি রহমান খান।

বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে অসতর্কভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে মেয়েরা বেশি অনলাইন উত্যক্ততা ও হয়রানির সহজ শিকারে পরিণত হয়। শহরের ৬৪ শতাংশ মেয়ে এবং গ্রামের ৩৩ শতাংশ মেয়েকে অশালীন ভিডিও, মেসেজ এবং ছবির মাধ্যমে অনলাইনে হয়রানি ও উত্যক্ত করা হয়। কন্যা শিশুদের অনলাইন হয়রানি করোনা মহামারির সময় চারগুণ বেড়েছে।

“বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা” শিরোনামে ইউনিসেফ বাংলাদেশ পরিচালিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৩২ ভাগ অনলাইনে উত্যক্ততা, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হয়।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর ২০১৯ সালের এক সমীক্ষা মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের ইন্টারনেটের সাথে কোন পরিচয় নেই। এছাড়াও ইন্টারনেট সুরক্ষা বিষয়ে মানুষের জ্ঞান এবং সচেতনতাও খুবই সীমিত, যা সাইবার অপরাধের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

BSH
Bellow Post-Green View