এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে খেলোয়াড়রা ও বোর্ড। এরমধ্যেই নাজমুলকে বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিসিবি। তাতেও ফলপ্রসূ কিছু হয়নি। বৃহস্পতিবার বিপএলের প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচও গড়ায়নি। জানা গেছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতই করা হয়েছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর।
বিসিবির একটি সূত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে আসর স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মাঠে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে আসেননি। সুতারং, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে বিপিএল এবারের আসর। আজ রাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে বোর্ড। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছিল, যদি আজকের মধ্যে ক্রিকেটাররা খেলায় না ফেরেন, তাহলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করা হবে। দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলোয়াড়রা না আসায় সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
দিনের প্রথম খেলায় মাঠে নামার কথা ছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের। সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে কোন ম্যাচই গড়ায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত, বুধবার ক্রিকেটারদের বেতন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ কেন দিবো? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করতেছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
এমনকি খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণ চাওয়ারও সুযোগ নেই বলেন নাজমুল। বলেন, ‘এই বিষয়টা (ক্ষতিপূরণ) তুলতেই পারবে না। কারণ, আমরা যে ওদের পিছে এত খরচ করতেছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারতেছে না, আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত আনতে পারছি? কোন একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাইলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি যে তোমরা খেলতে পারো নাই, তোমাদের পিছে যা খরচ করছি এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি। ফেরত দাও।’
এরপর বুধবার রাতে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে নাজমুলের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি সময় বেধে দেন বৃহস্পতিবার দুপুরের ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করলে বিপিএলের ম্যাচ খেলবেন না ক্রিকেটাররা।
সময় পেরিয়ে গেলেও নাজমুল পদত্যাগ না করায় বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ম্যাচ বয়কট করে সংবাদ সম্মেলনে বসে কোয়াব। জানায়, ‘বোর্ড ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে, ৪৮ ঘণ্টা পর যদি ওনাকে না সরিয়ে দেয় আবার খেলা বন্ধ হবে। আমরা মাঠে যাবো এক শর্তে, যদি বিসিবি থেকে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা আসে ৪৮ ঘণ্টা পর উনি থাকবেন না।’
বিসিবি এরপর নাজমুলকে অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে অপসারণের কথা জানায়। তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি ক্রিকেটাররা।









