মিরপুরে চার-ছক্কার ঝড় তুলেছেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। আসরের প্রথম কোয়ালিয়াফায়ারে সাকিব-সোহানদের দেয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করেছেন সহজে। দুই তারকা ক্রিকেটার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বিপিএলের সর্বোচ্চ শিরোপ জেতা দলটি। দশম আসরেও ফাইনালে পৌঁছে গেছে তারা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পঞ্চমবারের মতো বিপিএল ফাইনাল এটি। এর আগে চারবারের ফাইনালে ওঠে চারবারই শিরোপা জয় করেছে তারা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান কুমিল্লা অধিনায়ক লিটন দাস। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮৬ রানের সংগ্রহ গড়ে সাকিব-সোহানদের দল। জবাবে ৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে কুমিল্লা।
রানতাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। ইনিংসের প্রথম বলেই সুনিল নারিন ফিরে যান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরেন লিটন ও হৃদয়। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে দুজনে মিলে ১৪৩ রানের জুটি গড়েন। ১৫তম ওভারের শেষ বলে হৃদয় ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৪৩ বলে ৬৫ রান করেন হৃদয়।
১৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় কুমিল্লা। ১৬.৩ ওভারে জনসন চার্লস ফিরে যান ৩ বলে ১০ রান করে। ১৭.৫ ওভারে ১৭৩ রানে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিটনকে ফেরান শেখ মেহেদী। নয়টি চার ও চারটি ছক্কায় ৫৭ বলে ৮৩ রান করেন কুমিল্লা অধিনায়ক।
পরে আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মঈন আলী। ৬ বলে ১২ রান করেন মঈন আলী, রাসেল করেন ২ বলে ২ রান।
বরিশালের হয়ে ফজলহক ফারুকী নেন দুটি উইকেট। এছাড়া আবু হায়দার রনি ও শেখ মেহেদী নেন একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটে নেমে রংপুরের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ২৭ রানে তিন টপঅর্ডারকে হারায় তারা। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শামীম হোসেন (০), রনি তালুকদার (১৩) ও সাকিব আল হাসান (৫)।
অষ্টম ওভার শেষে টাইম আউটের সময় মাঠে ফিল্ড আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন দাস। বিতণ্ডায় জড়ানোর কারণ না জানা গেলেও লিটনকে খুব উত্তেজিত দেখা যায়। পরে কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এসে লিটনকে থামান। মাঠের খেলায় সাধারণত লিটনকে এরকম মেজাজ হারাতে দেখা যায়নি কখনও।
পরে খেলা গড়ালে শেখ মেহেদী হাসানের উইকেট তুলে নেন সুনিল নারিন। ১৭ বলে ২২ রান করেন মেহেদী। পরে ঝড় তোলেন জিমি নিশাম। ১০৪ রানে নিকোলাস পুরান ফিরে গেলে নিশামের সঙ্গে অন্যপ্রান্তে ঝলক দেখান সোহান। ২৪ বলে ৩০ রান করে ফিরে যান সোহান। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও একটি ছক্কা।
শেষওভারে নিশামের ব্যাটিং ঝড়ে মেতে ওঠে গ্যালারি। মুশফিক হাসানের ওভারটিতে পাঁচটি বাউন্ডারি আদায় করেন কিউই তারকা। যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও দুটি চার। সবমিলিয়ে ওই ওভার থেকে মোট ২৮ রান আদায় করেন এই ব্যাটার। সাতটি ছক্কা ও আটটি চারে ৪৯ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন নিশাম।
কুমিল্লার হয়ে আন্দ্রে রাসেল দুটি উইকেট নেন। এছাড়া রোহনাত দৌলা বর্ষণ, তানভীর ইসলাম, মুশফিক হাসান, ও সুনিল নারিন একটি করে উইকেট নেন।








