অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের আদ্যোপান্ত নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বই। সাবেক নারী ক্রিকেটার মিশু চৌধুরীর লেখা বইটির নাম ‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অভিযাত্রা’। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি মেলায় ১১৭-১২০ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
দেশে নারী ক্রিকেটও ইতিমধ্যে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছে, ঘরে তুলেছে বেশ কয়েকটি ট্রফিও। কীভাবে শুরু হল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অভিযাত্রা; প্রথম যুগে কারা ছিলেন এর কাণ্ডারি? বইটিতে পাওয়া যাবে সেই ইতিহাস। একইসঙ্গে বিশ্বের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসও যুক্ত হয়েছে।
বইটির দ্বিতীয় ভাগে আছে বাংলাদেশের সেরা নারী ক্রিকেটারদের কথা। প্রথম যুগের অভিযাত্রী হিসেবে মুসারাত কবির আইভী, তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, রুমানা আহমেদ প্রমুখ নিজেরাই বলেছেন তাদের ক্রিকেটার হওয়া ও দেশ-বিদেশে ক্রিকেট খেলার গল্প। এ গল্প শুধু খেলার নয়, বাংলাদেশে নারী হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার আপসহীন সংগ্রামেরও।
এই বইয়ে নারী ক্রিকেটের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত সংগঠকদের কথাও রয়েছে। সে গল্পও দেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ। বর্তমানে আম্পায়ারিং পেশায় নিয়োজিত মিশু চৌধুরী নিজে ক্রিকেটার ছিলেন। ফলে দেশের নারী ক্রিকেটের ভেতরের দিকটা তিনি এই বইয়ে সহজে তুলে ধরতে পেরেছেন। ক্রিকেটে আগ্রহ আছে এমন পাঠকদের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বই।
‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অভিযাত্রা’ বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন সব্যসাচী হাজরা। পাঠকরা ৩০০ টাকা মূল্যে বইটি কিনতে পারবেন।
লেখক পরিচিতি:
মিশু চৌধুরী ১৯৯০ সালের ২৪ নভেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম রোকেয়া সুলতানা। যদিও সবার কাছে মিশু চৌধুরী নামেই পরিচিত। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়য় থেকে মাস মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজমে স্নাতক। বগুড়া জেলার হয়ে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। রাজশাহী বিভাগ, সিলেট বিভাগ, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব- এ রকম বেশ কয়েকটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ২০০৮ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ৩০ জনের মধ্যে তার নাম ছিল। কিন্তু পরে বাদ পড়েন।.২০১৩ সালের বাঁ-পায়ের লিগামেন্টে চোট পান, তাতে খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
২০১৫ সালে টিভি পর্দায় ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন, বিজ্ঞাপনও করেছেন। ২০১১ সালে আম্পায়ারিং কোর্স করেন। ছেলেদের স্কুল ক্রিকেট লিগে ২০১২ সালে আম্পায়ারিং করেছেন। এরপর ২০২২ সালে ছেলেদের তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে তার অভিষেক হয়েছে।








