রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জঙ্গিদের বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলা ২৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম শেষ করা যায়নি।
মামলার ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। একই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ঢাকার বিচারিক আদালত রায় দিলেও আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) আবেদন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ১০ বছর। কবে নাগাদ নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ হবে, তা বলতে পারছেন না কেউ।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুলাহ আবু জানান, সাক্ষীরা একবার সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু পরে ওই সাক্ষীদের সহজেই পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন হয়ে গেছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচার কাজ শেষ হওয়া উচিত।
বিস্ফোরক মামলা
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ থমকে ছিল। ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর ২০২১ সালে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তৎপরতায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ওই ট্রাইব্যুনালেই শেষ হয়েছে। তবে দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেশি থাকায় গত বছরের মার্চে বিস্ফোরক মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর সপ্তম আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই আদালতে মামলার বিচার থমকে আছে।
জানতে চাইলে ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সাক্ষী না আসায় মামলার শুনানি হচ্ছে না। আরও দু–তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নয়তো আসামিরা এর সুযোগ নিতে পারে।
তিনি জানান, শিগগিরই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার পাশাপাশি আসামিদের ৩৪২ ধারা পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ নেবে।
২৩ বছর আগে ২০০১ সালে পহেলা বৈশাখের ভোরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে দুটি শক্তিশালী বোমা পুতে রাখা হয়। পরে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে তা বিস্ফোরণ ঘটায় আসামিরা। বিস্ফোরণে ১০ জন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১১ জন আহত ও পঙ্গু হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করে। এর প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলারই অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ নেতাকর্মী এ দুই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। এরমধ্যে হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন রায় দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ চারজন এখনো পলাতক।
এদিকে, রমনা বটমূলে হত্যা মামলার বিচার হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকলেও ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা এবং একই হামলায় তিনজন নিহতের ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সরকার। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মুফতি হান্নানসহ তার আরও দুই সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।







