ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সহিংসতা ও সামরিক উত্তেজনা তীব্রতর। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নামে চলা হামলায় প্রাণ গেছে অনেক নিরীহ পাকিস্তানির, এমন দাবিই করেছে দেশটির সরকার। তবে এই প্রাণহানির ঘটনাকে ভারত দেখছে চরম সফলতা হিসেবে। দেশটির সেনাদের নিয়ে রীতিমত উল্লাস দেখা গেছে সংবাদ মাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যমেও।
আর এই উল্লাসে সামিল হয়েছে বলিউডও! আর এতে বেশী মর্মাহত হয়েছেন পাকিস্তানের শিল্পী সমাজ। বলিউড তারকাদের যুদ্ধবাজ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তানি তারকারা বলছেন—এই যুদ্ধপ্রবণতাকে ‘দেশপ্রেম’ বলে তুলে ধরছে বলিউড! এটা ঠিক নয়।
পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের ‘যুদ্ধের ঢোলে নাচছে বলিউড’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সামরিক অভিযানে ৩১ জন পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু (যার মধ্যে একজন শিশু) ঘটার পর, বলিউড তারকারা প্রকাশ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করতে শুরু করেন। অজয় দেবগন, কাজল, বরুণ ধাওয়ান, সুনীল শেঠি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কঙ্গনা রানাউত ও আদনান সামি সামাজিক মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
সিদ্ধার্থ লেখেন, “অপারেশন সিঁদুর আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিশ্রুতি ও সাহসিকতার প্রতিফলন। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখাই। জয় হিন্দ!”
অন্যদিকে কাজল সংক্ষেপে লেখেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। জয় হিন্দ।” অজয় দেবগন লেখেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীকে স্যালুট। ভারত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জয় হিন্দ!”
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘পহেলগাম’ নিয়ে কেউ উৎসব করেনি, বলিউডের এই উল্লাসময় প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে পাকিস্তানি তারকারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। উর্বা হোসেন, ফয়সাল কুরেশি, হিনা আলতাফ ও হাসান রাহিম ইনস্টাগ্রামে বলিউডের ‘একচোখা দেশপ্রেমের’ বিরুদ্ধে সরব হন।
উর্বা লেখেন, “পাকিস্তানে কেউ পহেলগাম হামলার উদযাপন করেনি, বরং আমাদের ভুলভাবে দায়ী করা হয়েছে। অথচ ওরা আমাদের শিশু ও নারী হত্যার উৎসব করছে! সর্বোচ্চ স্তরের কাপুরুষতা!” তিনি আরও বলেন, “এই ভারতীয় অভিনেতাদের বর্জন করুন! তাদের ফিল্ম তো মুসলিম বা পাকিস্তানিদের অপমান না করে তৈরি হয়ই না!”
পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা ও উপস্থাপক ফয়সাল কুরেশি একটি ভিডিও বার্তায় বলিউড তারকাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সবাই একই রকম টুইট করেছে, বাহ বাহ করছে আক্রমণ নিয়ে। হয়তো চাপ রয়েছে, তাদের বলা হয়েছে কী লিখতে হবে। কিন্তু কিছু তো মানবতা থাকা উচিত।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “একটি শিশু মারা গেছে। আমরা জানি না পহেলগামে আসলে কী হয়েছিল। কেউ জানে না। কিন্তু যা তোমরা করেছো, তা আমরা দেখেছি।”
তিনি পাকিস্তানের সেলিব্রিটিদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ থাকার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, “আমরা এখানে এতটা স্বাধীন যে যা খুশি বলি। কেউ আমাদের বলে না কী করতে হবে। পাকিস্তানিরা, চোখ খুলো—এদের দেখো যাদের তুমি ফলো করো।”
‘দ্বৈততা’ চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন গায়ক হাসান রাহিম। তিনি বলেন, “সমস্যা পাকিস্তান দোষী কি না সেটা নয়। আমাদের এখানে কেউই পহেলগাম হামলার প্রশংসা করেনি। সবাই বলেছে এটা সন্ত্রাসবাদ। আমরা প্রমাণ চেয়েছি, পাইনি। কিন্তু আজ যখন বেসামরিক মানুষ ও শিশু মারা গেল, তখন তোমাদের উল্লাস দেখে মন ভেঙে গেছে।”
অভিনেত্রী হিনা আলতাফ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “পাকিস্তান সব ধরনের নিরীহ প্রাণহানির নিন্দা করে—নিজ দেশে হোক বা অন্য দেশে। কিন্তু এই কষ্টের সময়ে যখন ওরা উল্লাস করছে, তা হৃদয়বিদারক।”
তিনি তার ভক্তদের বলেন, “যারা সহিংসতা উৎসাহ দেয়, সরাসরি হোক বা পরোক্ষভাবে, তাদের আনফলো করুন, সাবস্ক্রাইব বন্ধ করুন। শান্তির কথা শুধু আমরাই বলছি, ওদেরও সেটা বলা উচিত ছিল।” –দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন








